নিউজপোল ব্যুরো: অভিষেকের পাপাচারের যেন কোনো শেষ নেই! দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রুজু হলো এক চাঞ্চল্যকর ফৌজদারি মামলা। মারাত্মক এই অভিযোগটি নিয়ে সোজা থানার দরজায় হাজির হয়েছিলেন হেভিওয়েট বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস।
তাঁর স্পষ্ট দাবি, আমফানের তাণ্ডবে যখন দক্ষিণবঙ্গের মানুষ হাহাকার করছিলেন, তখন তাঁদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ তহবিলের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা চম্পট দেওয়া হয়েছে।এই এফআইআর-এর অভিঘাত এতটাই তীব্র যে, এতে শুধু অভিষেক একাই নন, ফেঁসে গিয়েছেন তৎকালীন একাধিক তাবড় সরকারি আমলা ও নেতাও। জালিয়াতি ও চুরির এই তালিকায় নাম রয়েছে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা শাসক (ADM), ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) এবং তৃণমূলের একাধিক পঞ্চায়েত প্রধানের। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা, দুর্নীতির মতো একাধিক চরম জামিন অযোগ্য ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার জেরে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতারির খাঁড়াও ঝুলছে অভিযুক্তদের ওপর। ২৫০ কোটির এই ত্রাণ চুরির মেগা কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে জোড়াফুল শিবির।
একদিকে দলের ভেতর ক্ষমতা হেরে, আর অন্যদিকে এই একটার পর একটা আর্থিক কেলেঙ্কারির মারাত্মক ধাক্কা— সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার জোগাড়। আমফানের ক্ষত আজও শুকোয়নি, আর সেই ত্রাণের টাকা নিয়েই যদি দুর্নীতির অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে তা বাংলার মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এবার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, আর এই মামলায় কার কার নাম সামনে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। গরিবের পেটে লাথি মেরে ত্রাণের টাকা লুটের এই মারাত্মক মামলায় আইন আর আদালতের চক্কর থেকে অভিষেক কীভাবে নিজেকে বাঁচান, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির সবথেকে বড় চর্চার বিষয়।
