নিউজপোল ব্যুরো: একসময় যেখানে দিনরাত কর্মীদের ভিড় লেগে থাকত, সেই অস্থায়ী তৃণমূল ভবনেই এবার শুরু হয়ে গেল মালপত্র গুটিয়ে নেওয়ার কাজ। ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ভবন নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। আর সেই টানাপড়েনের মাঝেই মঙ্গলবার সকাল থেকে মেট্রোপলিটনের পাঁচতলা ভবনের একের পর এক তলা খালি করার কাজ শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, এ কি শুধুই অফিস বদল, নাকি বাংলার রাজনীতিতে এক যুগের অবসানের প্রতীক?
বাড়ির মালিক মন্টু সাহা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওপরে থাকা জিনিসপত্র নামানো শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে বাকি তলাগুলোও সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হবে। ২০২১ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা ভোটের পরেই উত্তর পঞ্চান্নগ্রামের বাইপাস সংলগ্ন পুরনো তৃণমূল ভবনটি ভেঙে নতুন করে গড়ার কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকে এই পাঁচতলা বাড়িটি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার করছিল তৃণমূল। জানা গিয়েছে, মেট্রোপলিটনের ওই পাঁচতলা বাড়ির তৃতীয় ও চতুর্থ তল থেকে ইতিমধ্যেই চেয়ার, টেবিল সহ বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি তলাগুলির জিনিসও ধাপে ধাপে সরানো হবে বলে জানিয়েছেন বাড়ির মালিক মন্টু সাহা।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর উত্তর পঞ্চান্নগ্রামে পুরনো তৃণমূল ভবন ভেঙে নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। সেই সময় থেকেই কলকাতার মেট্রোপলিটনের এই ভবনটি অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এখান থেকেই সাংগঠনিক কাজকর্ম চলেছে।তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ভবনের মালিক ও তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে ভবন খালি করা নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি থানাতেও পৌঁছায়। একদিকে মালিকের অভিযোগ, অন্যদিকে দলীয় নেতৃত্বের আলোচনার চেষ্টা— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে।
এখন ভবন খালি করার কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি অফিস খালি করার ঘটনা নয়, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলনও বটে। আগামী দিনে তৃণমূলের নতুন সাংগঠনিক কেন্দ্র কোথায় হবে এবং এই পরিবর্তন দলের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
