নিউজ পোল ব্যুরো:জাতীয় নিরাপত্তা’ ইস্যুতে নতুন করে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। লোকসভায় কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরব গগৈয়ের স্ত্রী (Gaurav Gogoi wife ISI allegation) এলিজাবেথ কলবোর্নকে ঘিরে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগের অভিযোগ সামনে এনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দ্বারস্থ হলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
অসম পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি ৪৪ পাতার রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়। সেই রিপোর্টে নাকি দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ‘যথেষ্ট উপাদান’ মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা তৌকির শেখের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে এলিজাবেথ কলবোর্নের (Gaurav Gogoi wife ISI allegation) বিরুদ্ধে। এই সূত্র ধরেই সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করে অসম সরকার। তদন্তে নাকি উঠে এসেছে, গৌরব গগৈ ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের ‘গভীর ও ধারাবাহিক যোগাযোগ’ রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, নজর এড়িয়ে আটারি সীমান্ত দিয়ে একাধিকবার পাকিস্তানে যাতায়াত করেছেন গগৈয়ের স্ত্রী। বিয়ের পর থেকে তিনি মোট ন’বার ইসলামাবাদ সফর করেছেন বলেও দাবি। পাশাপাশি ২০১৩ সালে গৌরব গগৈ নিজেও সস্ত্রীক পাকিস্তানে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সরকারি অনুমতি ছিল কেবল লাহোর সফরের জন্য, অথচ পরে ইসলামাবাদ ও করাচি সফর করা হয়—এমনই দাবি অসম সরকারের।
এই সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করেছেন গৌরব গগৈ। মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনকে কটাক্ষ করে তিনি একে ‘সুপার ফ্লপ’ বলে আখ্যা দেন। সমাজমাধ্যমে গগৈ লেখেন, “সি-গ্রেড সিনেমার থেকেও খারাপ। সাংবাদিকদের জন্য করুণা হচ্ছে—তাঁদের এমন একটি সুপার ফ্লপ সাংবাদিক সম্মেলন সহ্য করতে হল।”
পালটা আক্রমণে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ১২ হাজার বিঘা জমি দখল করে রাখার অভিযোগও তোলেন। ফলে একদিকে জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়, অন্যদিকে তীব্র রাজনৈতিক পালটা আক্রমণ—সব মিলিয়ে গগৈ-পত্নী বিতর্ক এখন রাজ্য-রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে কেন্দ্র-রাজ্য শক্তি-সমীকরণকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
