নিউজ পোল ব্যুরো:বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের আবহ। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণার পরদিনই রাজ্য জুড়ে ‘বাবরি যাত্রা’ শুরু করার কথা জানালেন বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir Babri Yatra)। তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/08/nabanna-informs-8505-group-b-officers-sir-supreme-court-hearing/
রবিবার মুর্শিদাবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর বলেন, বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সেই অপপ্রচারের জবাব দিতেই তিনি সরাসরি রাস্তায় নামছেন। মানুষের কাছে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরাই বাবরি যাত্রার মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি তাঁর।
উল্লেখ্য, বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা আগেই করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। ইতিমধ্যেই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি কোরান পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হচ্ছে ‘বাবরি যাত্রা’ (Humayun Kabir Babri Yatra)।
সূত্রের খবর, নদিয়া-মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক পলাশি থেকে যাত্রা শুরু হয়ে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার পর্যন্ত যাবে এই কর্মসূচি। প্রায় ১০০টি গাড়ির কনভয় নিয়ে মোট ২৬৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে বাবরি যাত্রা। প্রতিটি গাড়িতে চালক-সহ ছ’জন করে থাকবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ জন এই যাত্রায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, “এর আগেও একজন বাবরি মসজিদ নিয়ে অপপ্রচার করেছিলেন। তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। আবার কেউ করলে তাঁরাও ব্যর্থ হবেন।”
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই কর্মসূচি নিছক সামাজিক বার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গকে এক সূত্রে গাঁথার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যত ভোটের ময়দানে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছেন হুমায়ুন কবীর। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব যে ক্রমশ বাড়ছে, বাবরি যাত্রার মাধ্যমেই তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সব মিলিয়ে, বাংলায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ ও বাবরি যাত্রা—এই দুই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
