SIR voter list case:এসআইআরে ৮,৫০৫ গ্রুপ-বি আধিকারিক দেওয়া সম্ভব!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:ভোটার তালিকার (SIR voter list case) বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানির ঠিক আগে বড় বার্তা নবান্নের। এসআইআরের কাজের জন্য রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে পারবে বলে নির্বাচন কমিশনকে আগাম জানিয়ে রাখা হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, শনিবার একটি চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে নবান্ন।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/08/bjp-charge-sheet-30-assembly-constituencies-against-tmc-ahead-of-elections/

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এসআইআর সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেই শুনানিতে আগের মতোই রাজ্যের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সওয়াল করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা। তার আগেই গ্রুপ-বি আধিকারিকের সম্ভাব্য সংখ্যা জানিয়ে কমিশনকে চিঠি পাঠানোকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের অবস্থান তুলে ধরেন। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অভিযোগ করেন, এসআইআরের কাজে রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্রুপ-বি আধিকারিক দেয়নি। সেই ঘাটতির কারণেই কমিশনকে ভিন্‌রাজ্য থেকে আধিকারিক আনতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়। শুনানির পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ—যেখানে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলিও ছিলেন—রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, কতজন গ্রুপ-বি আধিকারিক দেওয়া সম্ভব, তা সোমবারের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই নির্ধারিত সময়ের আগেই চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

আগের শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, নামের বানান বা পদবি পরিবর্তনের মতো সামান্য কারণে বহু ভোটারকে এসআইআরের শুনানিতে হাজির হতে বলা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তাঁর দাবি। আদালতও এই বিষয়ে কমিশনকে সতর্ক করে জানায়, বানানের ছোটখাটো ভুলের জন্য যেন কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়। পাশাপাশি, ভাষাগত সমস্যার সমাধানে বাংলা ভাষায় দক্ষ আধিকারিক নিয়োগের পরামর্শ দেয় আদালত এবং নবান্নকে এমন আধিকারিকদের তালিকা দিতে বলা হয়।

এরপর কমিশন আদালতে জানায়, এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার এসআইআরের (SIR voter list case) কাজে মাত্র ৮০ জন গ্রেড-২ আধিকারিক দিয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বরং অঙ্গনওয়ারি কর্মীর মতো নিম্নস্তরের কর্মীদেরই বেশি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে কমিশন। যদিও এই অভিযোগ মানতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকার এসআইআরের কাজে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছে।

এই মামলায় আগেই নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে নোটিস পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারের মধ্যে দু’পক্ষের কাছ থেকেই বিস্তারিত জবাব চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শুনানির নোটিস জারি করার ক্ষেত্রে কমিশনের আধিকারিকদের আরও সংবেদনশীল হওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাজ অনেকটাই শেষের দিকে থাকলেও এখনও সব জায়গায় শুনানি সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও কমিশন সময় চেয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও, তা নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ পাবে না বলেই কমিশনের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে।