নিউজ পোল ব্যুরো:মুম্বইয়ের উপকূলবর্তী সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক তেল পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল ভারতীয় কোস্ট গার্ড (Indian Coast Guard operation)। ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি সমুদ্র ও আকাশপথ মিলিয়ে চালানো সুপরিকল্পিত অভিযানে তিনটি সন্দেহভাজন জাহাজ আটক করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/09/gogoi-wife-isi-allegation-himanta-amit-shah/
কোস্ট গার্ড সূত্রের দাবি, সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত তেল আন্তর্জাতিক জলসীমায় ‘শিপ-টু-শিপ’ স্থানান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছিল। এই প্রক্রিয়ায় কাস্টমস শুল্ক ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে তেল সরবরাহ করা হত বিভিন্ন দেশে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।
উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থায় ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)-এর মধ্যে সন্দেহজনক গতিবিধি প্রথম ধরা পড়ে। তার ভিত্তিতেই মুম্বই থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে তিনটি জাহাজকে চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়। সন্দেহ, এই জাহাজগুলিই সমুদ্রমাঝে অবৈধভাবে তেল স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিল।
এক কোস্ট গার্ড (Indian Coast Guard operation) আধিকারিক জানান, ডিজিটাল নজরদারি ও ডেটা-প্যাটার্ন বিশ্লেষণে জাহাজগুলির অস্বাভাবিক চলাচল ও নির্দিষ্ট স্থানে বারবার জড়ো হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই দ্রুত কোস্ট গার্ডের জাহাজ ও বিমান মোতায়েন করা হয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
৫ ফেব্রুয়ারি বিশেষ প্রশিক্ষিত বোর্ডিং টিম জাহাজগুলিতে উঠে দীর্ঘ তল্লাশি চালায়। জাহাজে থাকা ইলেকট্রনিক ডেটা, নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয় এবং নাবিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এর মাধ্যমেই গোটা পাচারচক্রের কার্যপদ্ধতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একাধিক দেশের ‘হ্যান্ডলার’-দের যুক্ত রেখে এই আন্তর্জাতিক পাচারচক্র সমন্বিতভাবে কাজ করছিল। জাহাজগুলি নিয়মিত নাম, পতাকা ও ডিজিটাল পরিচয় পরিবর্তন করত, যাতে সামুদ্রিক আইনরক্ষাকারী সংস্থার নজর এড়ানো যায়। এমনকি জাহাজগুলির মালিকানার সূত্র বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকারও ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রমাণ সংগ্রহের পর তিনটি জাহাজই আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করা হয়েছে। সেগুলিকে মুম্বই বন্দরের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে, যেখানে ভারতীয় কাস্টমস ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য।
কোস্ট গার্ডের এক মুখপাত্র বলেন, “প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং সমুদ্রে ধারাবাহিক উপস্থিতির সমন্বয়ে জটিল সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা এই অভিযানে স্পষ্ট হয়েছে।”
আধিকারিকদের মতে, এই সফল অভিযান আন্তঃদেশীয় সামুদ্রিক অপরাধ দমনে ভারতের দৃঢ় অবস্থানকে আরও জোরালো করল। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘নেট সিকিউরিটি প্রোভাইডার’ হিসেবে ভারতের ভূমিকা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিশ্রুতি আবারও প্রতিষ্ঠিত হল।
