তৃণমূল নেতার ভাই এবার ISI-এর চর? রাজ্য পুলিশের STF-এর জালে ইসলামপুরের ফজলে রব্বি

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: উত্তর দিনাজপুরে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগকে ঘিরে। রাজ্য পুলিশের STF-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ফজলে রব্বি নামে এক ব্যক্তি, যিনি ইসলামপুর ব্লকের তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি জাকির হোসেনের ভাই বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর হয়ে তথ্য পাচারের অভিযোগের তদন্তে আগেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এবার ফজলে রব্বির নাম সামনে আসে বলে দাবি STF সূত্রের। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন। ISI-এর হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এবং সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে STF। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ধৃতরা ভারতীয় সেনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সন্দেহজনকভাবে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। ‘আর্মি ওয়েলফেয়ার এডুকেশন সোসাইটি’র নাম ও লোগো ব্যবহার করে ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে STF সূত্রের দাবি। সেই তিন অভিযুক্তকে জেরা করতেই তদন্তে নতুন সূত্র পাওয়া যায় বলে জানা যাচ্ছে। আর সেই সূত্র ধরেই ফজলে রব্বির কাছে পৌঁছয় তদন্তকারীরা। এরপর উত্তর দিনাজপুর থেকে তাঁকে আটক করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারির পর তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।

ফজলে রব্বির স্ত্রী নুরনেহার বেগমের দাবি, তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে ফজলে রব্বিকে। রাজনৈতিক পরিচিতির কারণেই বিরোধীদের চক্রান্তে তাঁর স্বামীকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তদন্তে ফজলে রব্বির বিরুদ্ধে ঠিক কী তথ্য পেয়েছে STF? তাঁর সঙ্গে আগেই গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের সম্পর্ক কী? সত্যিই কি কোনও তথ্য পাচারের চক্রের সঙ্গে যোগ রয়েছে, নাকি তদন্তের পরে সামনে আসবে অন্য কোনও তথ্য? একের পর এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।