‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির বিতর্কে বড় মোড়! রবীন্দ্র নগর ও বিষ্ণুপুর থানার ৩টি মামলায় আদালতের রক্ষাকবচ পেলেন অভিষেক

breakingnews অন্যান্য অপরাধ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরে একাধিক অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগে অস্বস্তিতে থাকা ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রবীন্দ্র নগর এবং বিষ্ণুপুর থানায় রুজু হওয়া ৩টি পৃথক মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও চরম বা কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না পুলিশ। শুক্রবার হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের এই নির্দেশের পর বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। ডায়মন্ড হারবারে আয়োজিত অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলে রবীন্দ্র নগর ও বিষ্ণুপুর থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগের তালিকায় ছিল— সরকারি হাসপাতালের মহামূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম অবৈধভাবে তুলে আনা, সরকারি ডাক্তার থেকে শুরু করে অনভিজ্ঞ ও চিকিৎসকের তকমা না-পাওয়া ইন্টার্নদের দিয়ে রোগী দেখানো এবং চিকিৎসায় চরম গাফিলতির। একাধিক কড়া ধারায় দায়ের হওয়া এসব মামলায় সাংসদের আইনি ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল শুরু হয়েছিল। কিন্তু আদালতের এই নির্দেশে আপাতত সেই জল্পনায় জল ঢেলে দেওয়া গেল।

তবে এদিনের শুনানিতে এজলাসে এক নাটকীয় পরিবেশ তৈরি হয়। কেস ডায়েরি ও মামলার মূল নথি পর্যালোচনা না-করে কোনও শুনানি ছাড়াই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবে একতরফা রক্ষাকবচ দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্যের সেই জোরালো আপত্তিকে কার্যত খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। চরম বিরক্তি প্রকাশ করে বিচারপতি মন্তব্য করেন, “মে মাস থেকে এই এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা শুনতে গিয়েই অন্য গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সময় দেওয়া যাচ্ছে না!” এই মন্তব্যের পরেই তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, রাজ্যের বিভিন্ন থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অন্তত ১৬টি মামলা রুজু রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়, যার অধিকাংশতেই হাইকোর্টের বিভিন্ন এজলাস থেকে রক্ষাকবচ মিলেছে। এমনকি চোখের চিকিৎসার জন্য সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে বিদেশ যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে। তবে এই সব মামলায় রক্ষাকবচ বাতিল ও অভিষেকের বিদেশযাত্রায় আপত্তি জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের দাবি, রক্ষাকবচ পাওয়ার জন্য আদালতে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে। আগামী ২৫ অগস্ট এই সংক্রান্ত মূল মামলায় হাইকোর্টের রায় দেওয়ার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগেই ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের এই আইনি সুরক্ষা পাওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, ২৫ তারিখের রায়ে আইনি যুদ্ধ কোন নতুন মোড় নেয়!