দুধ ফেলে দেওয়ার বিতর্কে এবার মুখ খুললেন অগ্নিমিত্রা! ‘কান্নাকাটি নয়, দুর্ঘটনা ঠেকাতেই বারণ’, পাল্টা নিশানায় কুণালদের

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ফুটপাত দখলমুক্ত করা নাকি তীব্র অমানবিকতা? একটি শিশুর জন্য দুধ গরম করাকে কেন্দ্র করে গত দু’দিন ধরে রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্কের আগুন জ্বলছে। কাঠগড়ায় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও-কে হাতিয়ার করে বিরোধীরা যখন সুর চড়িয়েছেন, ঠিক তখনই সেই শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রাজনীতির ময়দান গরম করে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। কিন্তু ভাইরাল হওয়া সেই দৃশ্যটির নেপথ্যে আসল সত্যটা ঠিক কী? সত্যিই কি ফুটপাতে ৬ মাসের শিশুর দুধ ফেলে দিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী? সমস্ত জল্পনা ও সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে এবার নীরবতা ভাঙলেন অগ্নিমিত্রা পাল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কড়া ভিডিও বার্তা জারি করে বিরোধীদের ধুয়ে দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “গতকাল সারাদিন বিরোধীদের অনেক কান্না শুনলাম ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফুটপাতে দুধ গরম করা নিয়ে। কিন্তু কুণাল ঘোষরা রাজনীতি করতে ছুটে গেলেও কেউ ওই পরিবারের কাছে ১ বাটি দুধ নিয়ে এগিয়ে যাননি! সবাই রাজনীতির আগুনে নিজেদের রুটি সেঁকতে ব্যস্ত।” তিনি তোপ দেগে বলেন, কংগ্রেস, সিপিএম এবং গত ১৫ বছরে তৃণমূল মানবিকতা কাকে বলে তা রাজ্যবাসীকে ভালোভাবেই দেখিয়ে দিয়েছে। হকার বসিয়ে যে দল ছত্রে ছত্রে দুর্নীতি করেছে, তাদের থেকে অন্তত বিজেপিকে মানবিকতার পাঠ নিতে হবে না।

এরপরই সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, তার এক হাড়হিম ও বিপজ্জনক বিবরণ তুলে ধরেন মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, “ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো অত্যন্ত ব্যস্ত ও বিপজ্জনক একটি রাস্তায়, যেখানে প্রতিনিয়ত দ্রুত গতিতে গাড়ি ছুটছে, দুপুর ২টোর সময় দেখা যায় একটা ৬ মাসের শিশু ফুটপাতে একা একা হামাগুড়ি দিচ্ছে! তার আশেপাশে অভিভাবকরা ছিলেন না। আর অনবরত পথচলতি মানুষ ও স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতের মাঝেই ফুটপাতের ওপর উন্মুক্ত কেরোসিন স্টোভ জ্বালিয়ে এক গামলা দুধ জ্বাল দেওয়া হচ্ছিল! যদি সেদিন স্টোভ উল্টে বা গাড়ির ধাক্কায় বড় কোনও অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা ঘটে যেত, তবে তার দায় কে নিত? মুখ্যমন্ত্রী? নাকি প্রশাসন?”

বিতর্কের জবাবে মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট রায় অনুযায়ী ফুটপাত বড়লোক বা গরিব কারও ব্যক্তিগত জায়গা নয়; তা সাধারণ মানুষের নিরাপদে চলাচলের জন্য মুক্ত রাখতে হবে। তিনি জানান, সরকার বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এবং ওই পরিবারকে আগেই নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে বলা হয়েছিল। এমনকি ক্যামেরার সামনে ওই মহিলা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর আসল বাড়ি ধাপায়। তাহলে ধাপায় বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কেন দিনের পর দিন বিপজ্জনকভাবে শহরের ব্যস্ত ফুটপাতে স্টোভ জ্বালানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পুরমন্ত্রীর সাফ দাবি, জনগণের ভোটে বিজেপির জয় সহ্য করতে না পেরে বিরোধীরা এই সস্তা রাজনীতি তৈরি করছে, কিন্তু পরিচ্ছন্ন ও সুরক্ষিত শহর গড়তে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।