নিউজপোল ব্যুরো: দোকান থেকে খাবার কিনতে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিল সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরী। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরলেও, তার সঙ্গে যা ঘটেছে বলে অভিযোগ, তা শুনে শিউরে উঠেছে পরিবার। গাজিয়াবাদে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিনজনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন নাবালক এবং একজনের বয়স ১৮ বছর। অভিযোগ সামনে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরের পর ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় একটি দোকান থেকে চাইনিজ খাবার কিনতে একাই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই কিশোরী। অভিযোগ, সেই সময় পরিচিত তিন যুবক তাকে জোর করে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন জায়গায় তাকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়ি খুব বেশি দূরে না হওয়ায় হেঁটেই বাড়ি ফিরে আসে কিশোরী। বাড়িতে ফেরার পর পরিবারের সদস্যরা দেরির কারণ জানতে চান। তখনই কিশোরী পুরো ঘটনা জানায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর তার মা সরাসরি ওয়েভ সিটি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণ এবং গণধর্ষণের ধারায় মামলা শুরু হয়। পাশাপাশি শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন পকসোর সংশ্লিষ্ট ধারাতেও মামলা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। ওয়েভ সিটি এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রিয়াশ্রী পাল জানিয়েছেন, ঘটনায় ১৬ ও ১৭ বছরের দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৮ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজনই একই এলাকার বাসিন্দা এবং কিশোরীকে আগে থেকেই চিনত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তিনজনই ছাত্র বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা কিশোরী স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনাটি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে ঘটেছিল, তা জানতে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের কাছ থেকে আরও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষাও করানো হয়েছে। তবে মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট এখনই প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাস্থল, অভিযুক্তদের গতিবিধি এবং অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযোগে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে, সেখান থেকেই দুই নাবালককে হেফাজতে নেওয়া হয়। ১৮ বছরের যুবককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। নাবালক অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
