Assembly Election: হিংসার ছায়ায় ২০২৬-এর ভোট, বাংলার জেলায় জেলায় অশান্তি

জেলা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ভোটের বাকি এখনও অন্ততপক্ষে ৯ মাস। এখনও কোন দল প্রার্থী তালিকা দেয়নি। বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) দিনক্ষণ ঘোষণা অনেক দূর। কিন্তু হলে কি হবে। বাংলার রাজনৈতিক (political) উত্তাপ দেখলে বোঝার উপায় নেই ভোটের এখনও বহু দেরি। মালদহ, বাঁকুড়ায় ইতিমধ্যেই বেশকিছু রাজনৈতিক খুন হয়ে গেছে। এর মধ্যে কিছু গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের ঘটনাও আছে। কিন্তু সে সব থেকে শিক্ষা নেওয়া তো দুরের কথা। রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যেন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মালদহ থেকে বাঁকুড়া- হিংসার রাজনীতি কিংবা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের যে ক্রম বর্ধমান ঝোঁক (tendency)তার ভয়ানক পরিণতি ভেবে দেখার এখনও সময় আছে। কিন্তু সেই সদিচ্ছা কোন দলেরই দেখা যাচ্ছে না। বারাসাত তথা উত্তর ২৪ জেলাও সেই প্রবাহে ভেসে চলেছে।

আরও পড়ুন: KBC-তে ‘দেশপ্রেম’-এর স্পেশাল এপিসোড, অপারেশন সিঁদুর থেকে ‘ভারত মাতা কি জয়’, হট সিটে সশস্ত্র বাহিনীর বীররা!

গত সপ্তাহে বারাসাতে কন্যা সুরক্ষা যাত্রা করেছিলেন রাজ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সেই মিছিল বারাসাত চাপাডালি মোড়ে এসে পৌঁছলেই জয় বাংলা শ্লোগান ওঠে তৃণমূলের(tmc) আইএনটিটিইউসির পার্টি অফিসের সামনে থেকে , এরপরেই তৃণমূল কর্মীদের মারধর ও পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির (bjp) বিরুদ্ধে। পার্টি অফিস ভাঙচুর ও অন্য রাজ্যে বাঙ্গালীদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে সোমবার বারাসাত চাপাডালি মোড় পর্যন্ত মিছিল করেন আইএনটিটিইউসির কর্মী সমর্থকরা, মিছিল শেষে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বারাসাত সাংসদীয় জেলার সভাপতি তাপস দাশগুপ্ত বলেন “আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি শুভেন্দু অধিকারীকে। আমরা ভাই সিপিএম তাড়ানো লোক – সিপিএমের কাছে মার খেয়েছি পাল্টা মেরেছি, এবার আমি বলব বিজেপি (bjp) সাবধান হও এরপরে পাল্টা মারের জায়গা যখন যাবে পালিয়ে কুল পাবে না। ২৬-শে নির্বাচন এখনো অনেক দূরে তার আগে বিজেপি মিটিং মিছিল করতে পারে কিনা সেটা ওদের চিন্তা করতে হবে, সেই জায়গাটাই তৈরি করছে ওরা।”

পাল্টা বিজেপি (bjp) নেতা দীপঙ্কর সরকার বলেন,” তৃণমূলের (tmc) আজ কি ভগ্নদশা পরিণত হয়েছে, বিজেপির বিরুদ্ধে মার দাঙ্গার কথা বলছে , কিন্তু বিজেপি মারদাঙ্গাকে বিশ্বাস করে না।” খুব ভাল কথা, রাজনৈতিক পরিণত বুদ্ধির কথা। কিন্তু এরপরে যেটা বললেন সেটা সেই চুড়ি না পরার মত অর্বাচীন মর্দানির মত কথা। এরপরে আরও সংযোজন,” কেউ যদি ভাবেন বিজেপিকে ভয় দেখিয়ে চুপ করে বসিয়ে রাখতে চাইবে তাহলে তাদেরকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই আপনারা যে ভাষায় বোঝেন সেই ভাষাতেই আপনাদের বোঝানো হবে, সেই ভাষায় কথা বলেই আপনাদেরকে বাড়িতে ঢুকিয়ে দেব। তা যদি না পারি তাহলে বিজেপি বিজেপিই নয়। আজকের বিজেপি সুকান্ত মজুমদার, শমিক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীদের বিজেপি।” মানে যেন এরা সকলেই এক একজন ব্লাকবেল্ট ধারি ক্যারাটে চ্যাম্পিয়ন। পরের সংযোজন একেবারেই হিন্দি ছবির মাপা সংলাপ–” আপনারা যে ভাষায় কথা বলেন সে ভাষাতেই আমরা জবাব দেব, সবে তো দেখেছেন ট্রেলার। এখনো অনেকটা সিনেমার বাকি। ( কি? মনে হচ্ছে না- হিন্দি সিনেমার ডায়লগের মত)

তাপস দাশগুপ্তের কথায় যে টুকু পরিশীলতা আছে। এখানে তাও অনুপস্থিত। দাদারা ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) ঢের দেরি আছে। মানছি আপনাদের এই সমস্তই জনগনের প্রয়োজনের কথা ভেবে। সাধারণ মানুষের সেবার জন্য নাকি কান্না থেকে মল্ল যুদ্ধ সবই চলবে। তবু প্রাণগুলো আমাদের সবার। একটু ঠাণ্ডা হয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিতর্কের মাধ্যমে করলে ভাল হত নাকি। এই বাংলায় একটা ক্লাব স্তরের নির্বাচনেও দু একটা ‘বডি’ ফেলে দেওয়ার ধারাবাহিক ট্র্যাডিশন আছে। আর এ তো বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election) আমরা জনগণ মারিতে এমনিতেই মরে আছি, বাকি আছে মৃত্যুর মিছিল। আশংকা আর দোলাচলের মাঝে একটাই আশা। যদি বেঁচে থাকি। সব অর্থনৈতিক সুবিধা তখন আমরাই পাব। আপনারা তো আমাদের সেবার জন্যই এভাবে আস্তিন গুটাচ্ছেন। ভয় -সেই আস্তিনে আবার অনেকের সাপ রাখা থাকে। কার হাতে তুরুপের তাস কে জানে। ‘সময়’ জানতে পারে। শেষ পর্যন্ত তেনার হাতেই সব কিছু।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole