নিউজপোল ব্যুরো: আগের সরকারের আমলে দুর্গাপুজোর শেষে রেড রোডের কার্নিভাল ছিল অন্যতম বড় আকর্ষণ। সেই জাঁকজমক, বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি এবং বাংলার পুজোকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার প্রচার ঘিরে তৈরি হয়েছিল আলাদা আবহ। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার পুজোর শুরুতেই সেই মেগা-ইভেন্টের পাল্টা ছবি দেখাতে চাইছে বর্তমান সরকার। দুর্গাপুজোর কার্নিভালকে ঘিরে এতদিন যে ছবি দেখা গিয়েছে, এ বার সেই উৎসবের আবহ শুরু হতে পারে আরও আগেই। মহালয়ার দিনই ইডেন গার্ডেন্সে বড়সড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, আগামী ১০ অক্টোবরের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি চলছে। অর্থাৎ বিসর্জনের পর নয়, পুজোর শুরুতেই বাংলার দুর্গোৎসবকে বড় মঞ্চে তুলে ধরার পরিকল্পনা।
জানা যাচ্ছে, একই দিনে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি স্তরে ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে প্রয়োজনীয় আয়োজনের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। সিএবি সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজও শুরু হয়েছে। যদিও পুরো অনুষ্ঠানসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এই মেগা শো-র মূল লক্ষ্য শুধু বিনোদন নয়। বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরাই বড় উদ্দেশ্য। ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচি নাচ, আগমনী, বিভিন্ন জেলার লোকশিল্প এবং বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক ধারাকে অনুষ্ঠানের মঞ্চে জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তৃণমূল সরকারের সময়ে দুর্গাপুজোর পর রেড রোডের কার্নিভাল বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে জেলা সদরগুলিতেও কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বড় পুজোগুলির সঙ্গে যুক্ত বহু পরিচিত মুখের ভূমিকা বদলেছে। সেই আবহেই পুজোর শুরু থেকেই নতুন মাত্রা যোগ করতে চাইছে বর্তমান সরকার।
আগামী সোমবার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই পুজো ঘিরে সরকারের পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা সামনে আসতে পারে। ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া কলকাতার দুর্গাপুজোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাকে বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক পর্যটনের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই এখন সরকারের বড় লক্ষ্য বলে সূত্রের দাবি।
