নিউজপোল ব্যুরো: আকাশে-বাতাসে ইতিমধ্যেই বাজতে শুরু করেছে আগমনির সুর, আর তার মাঝেই রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা— দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে এবার কী বড় চমক দিতে চলেছে রাজ্যের নতুন সরকার? আজ, ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটে নাগাদ মিলনমেলা প্রাঙ্গনে সমস্ত পুজো কমিটির সঙ্গে এক মেগা সমন্বয় বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর নতুন গাইডলাইন কী হবে? প্রতিমা বিসর্জনের দিনক্ষণ কবে ঠিক হবে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ঢালাও খয়রাতি কি বন্ধ হতে চলেছে? ঠিক কোন কোন পুজো কমিটি এবার সরকারি অনুদান পাবে? এই সমস্ত হাই-ভোল্টেজ প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আজকের এই ধামাকা বৈঠক থেকেই। সারা রাজ্যের হাজার হাজার পুজো উদ্যোক্তাদের নজর এখন আক্ষরিক অর্থেই মিলনমেলার দিকে।
রাজ্যের মসনদে বসার পর গত জুন মাসেই দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, “সরকারি অর্থ যাদের প্রয়োজন নেই, আমার মনে হয়, তাদের দেওয়ারও দরকার নেই। যাঁরা অর্থের অভাবে পুজো করতে পারেন না বা পারবেন না, সরকার কেবল তাঁদেরই পাশে থাকবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই রূঢ় বাস্তবোচিত বার্তার পরেই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, আগের সরকারের মতো ঢালাও অনুদান হয়তো এবার আর জুটবে না। যোগ্য ও অভাবী পুজো কমিটিগুলিই কেবল সরকারি অর্থের সাহায্য পাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রাজ্যে দুর্গাপুজোর ক্লাবগুলিকে প্রথম সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা চালু করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। সেই বছর ক্লাব পিছু অনুদানের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। এরপর বছর যত গড়িয়েছে, সেই টাকার অঙ্ক লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। ২০২৩ সালে সেই অনুদান পৌঁছায় ৭০ হাজার টাকায় এবং ২০২৪-এ তা দাঁড়ায় ৮৫ হাজারে। এরপর ২০২৫ সালে, অর্থাৎ গত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের বছর, কার্যত কল্পতরু হয়ে উঠেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একধাক্কায় পুজো অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা!
এবার পালা বাংলার নতুন সরকারের। তৃণমূল আমলের সেই লক্ষ টাকা বিলোনোর প্রথা কি এবার চিরতরে মুছে যাবে? সরকারি রাজকোষ বাঁচাতে অনুদানে বড়সড় কোপ পড়বে কি? আর সবচেয়ে বড় কথা, কেবল ‘প্রয়োজনীয়’ ক্লাবগুলিকে বেছে নেওয়ার মাপকাঠিই বা কী হবে? এই সমস্ত ধোঁয়াশা কাটাতেই আজ বিকেল চারটের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।
