নিউজপোল ব্যুরো: লাগাতার বৃষ্টির জেরে রাজ্যজুড়ে জলযন্ত্রণার মাঝেই এবার ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে এক অজানা আতঙ্ক! বর্ষার কালো মেঘের আড়ালে গোটা বাংলায় নিঃশব্দে জাল বিস্তার করছে মারণ ডেঙ্গি। স্বাস্থ্য ভবনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সামনে আসতেই রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ রাজ্যবাসীর। খোদ স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট বলছে, ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার পার করে গিয়েছে। আর সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো খবর হলো, সংক্রমণের এই প্রাণঘাতী দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানেই জ্বলজ্বল করছে খোদ তিলোত্তমা কলকাতার নাম!
পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে কার্যত মহামারীর আকার ধারণ করতে চলেছে এই মশাবাহিত রোগ। সংক্রমণের নিরিখে এখন রাজ্যের মধ্যে পয়লা নম্বরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। শুধুমাত্র ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জেলাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭০ জন! শেষ এক সপ্তাহেই সেখানে নতুন করে জ্বরে পড়েছেন ৯৬ জন। নওদা ব্লকের পাটিকাবাড়ি গ্রামের আলেপ শেখ বা মফিজুল শেখের মতো অনেকেই জ্বর নিয়ে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেই রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গির প্রমাণ মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার থেকে নওদায় শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি স্প্রে করার কাজ। তবে পিছিয়ে নেই খাস কলকাতাও। খোদ রাজধানীতে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গির কবলে পড়েছেন ৪০২ জন। গত সাত দিনেই তিলোত্তমায় আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে বেড়েছে ৬২ জন!
মৃত্যুভয় উসকে দিচ্ছে বাকি জেলাগুলির ছবিও। স্বাস্থ্য দফতরের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৪৬, মালদায় ৩৩১, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২৪, নদিয়ায় ৩১৬ এবং হুগলিতে ২৯৩ জন ডেঙ্গির শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি হাওড়ায় ২৭৬ এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে যথাক্রমে ২৩৩ ও ১৪০ জন আক্রান্ত। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের জাহাননগর পঞ্চায়েত এলাকা যেন আস্ত এক ডেঙ্গির খনি! গত আট মাসে শুধু ওই এলাকাতেই ৮৪ জনের শরীরে মিলেছে ডেঙ্গির জীবাণু। গত ৩০ এপ্রিল রাজ্যে যেখানে ডেঙ্গি আক্রান্ত ছিলেন মাত্র ৭৭০ জন, অগাস্টের শেষে সেটাই পৌঁছেছে ৩৯৬৬-তে, আর এখন তা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে চলা এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ রীতিমতো ঘুম উড়িয়েছে চিকিৎসকদের।
তবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মারণ ডেঙ্গির এই বেলাগাম দৌড় রুখতে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আজ ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যজুড়ে জোরদার ডেঙ্গি-দমন অভিযান শুরু হচ্ছে।
