নিউজপোল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর ঠিক মুখেই রাজ্যে বাজল উপনির্বাচনের মহা দামামা! আগামী ৬ অক্টোবর রাজনীতির দুই মহা ভরকেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে হতে চলেছে হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা উপনির্বাচন। ৯ অক্টোবর ভোটগণনা শেষ হতেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কার মাথায় উঠছে জয়ের মুকুট। কিন্তু কমিশনের তারিখ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য রাজনীতির তামাম অঙ্ক ওলোটপালোট করে দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর! রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন সোজা বলে দিলেন, “নন্দীগ্রামে চোখ বন্ধ করে জিতবে বিজেপি!” উৎসবের মরশুমের মুখে তাঁর এই মন্তব্যে এখন রাজ্য রাজনীতি জুড়ে তীব্র ভূকম্পন শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে দুই ভিআইপি মুখ— শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীর দু’টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই জয় হাসিল করেছিলেন। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় জয়ী হওয়ার পর একটি করে আসন ছাড়তে হয় তাঁদের। ভবানীপুর থেকে জয় পেয়ে বিধায়ক হয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার স্বার্থে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন হুমায়ুন কবীর। যার জেরে ফাঁকা হওয়া এই দুই হেভিওয়েট আসনেই ফের উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন।
উপনির্বাচনের সিডিউল আসতেই রেজিনগরের ধর্মীয় মেরুকরণ ও ভোট-রসায়ন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিস্ফোরক ভূমিকা নেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফ দাবি, রেজিনগরে তৃণমূল বিরোধী হাওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় মেরুকরণের খেলা চললেও, নন্দীগ্রামের সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। হুমায়ুন প্রকাশ্যে জানান, নন্দীগ্রামে ভালোভাবেই বাজি মারবে বিজেপি। হুমায়ুনের এই মন্তব্যে যখন রাজনৈতিক অলিন্দে তোলপাড়, ঠিক তখনই নন্দীগ্রাম ধরে রাখা নিয়ে পাল্টা মেগা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়ে তিনি দাবি করেন, “নন্দীগ্রামের মানুষ বলছেন, এবার অতীতের সমস্ত মার্জিন টপকে যাবে বিজয়ের ধ্বজা!”
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর ফলাফল বেরোনোর পরেই পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। তবে পুজোর কেনাকাটা ও মণ্ডপ তৈরির চূড়ান্ত ব্যস্ততার মাঝেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের এই অল-আউট যুদ্ধ যে বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে হুমায়ুন কবীরের মতো সংখ্যালঘু নেতার মুখে নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের আগাম সীলমোহর নতুন কোন গোপন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, এখন সেটাই দেখার।
