নিউজপোল ব্যুরো: আমেরিকার রাজনীতিতে যেন নতুন এক অধ্যায়ের শুরু! ভোটের আগে সাধারণ নাগরিকদের জন্য বিপুল অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চমকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষই যদি রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫০০০ ডলার করে দেওয়া হতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্ক ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকারও বেশি।
ডালাসে একটি মিডটার্ম নির্বাচনী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, রিপাবলিকানরা জিতলে সাধারণ মানুষও তার সুফল পাবেন। এই অর্থকে তিনি ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি কার্যত নিজের পক্ষেই ভোট দেওয়ার বার্তা দেন। আমেরিকায় প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর। কিন্তু মেয়াদের মাঝপথে অর্থাৎ দুই বছর পর হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা ঠিক হয়। কংগ্রেসের হাতে আইন তৈরি, সরকারি অর্থ খরচ এবং বাজেট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। ফলে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে প্রেসিডেন্টের কাজকর্মেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। আর এখানেই ট্রাম্পের ৫০০০ ডলারের ঘোষণাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এই অর্থ দিতে হলে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। হিসাব অনুযায়ী, খরচের পরিমাণ প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে। কিন্তু সেই টাকা ঠিক কোন উৎস থেকে আসবে, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।
এর মধ্যেই মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষায় তাঁর সমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান নিয়ে মার্কিন নীতির মতো বিষয় নিয়েও মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫০০০ ডলারের এই ঘোষণা এখন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেই প্রশ্ন থাকছেই। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট—মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই ‘ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা ভোটের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে
