শালবনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা হাতি-সহ দুই শাবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা

breakingnews জেলা

নিউজপোল ব্যুরো: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকায় নেমে এল চরম বিভীষিকা! রবিবার ভোরে পিড়াকাটা রেঞ্জের রঞ্জার জঙ্গল লাগোয়া এক ধানজমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো দুটি নিষ্পাপ হস্তিশাবক সহ একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির। একই সাথে একটি গোটা হাতি পরিবারের এই করুণ পরিণতিতে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকালে চাষের জমিতে কাজ করতে যাওয়ার সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরা ধানক্ষেতের মাঝে তিনটি বিশাল হাতির দেহ নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চমকে ওঠেন। খবর ছড়াতেই আশেপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান এবং তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় স্থানীয় বনদপ্তরে।

প্রাথমিক তদন্তে বনদপ্তরের অনুমান, চাষের ক্ষেতের ওপর দিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারে অসাবধানতাবশত জড়িয়ে পড়েই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। হাতির দলটি যখন রাতে খাবারের সন্ধানে বা যাতায়াতের জন্য ধানজমিতে নামে, তখনই বিদ্যুতের ঝুলন্ত তারের স্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় তারা। বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতি নাকি জমিতে বেআইনিভাবে দেওয়া বিদ্যুতের ফাঁদের কারণে এই করুণ মৃত্যু, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে বনদপ্তরের আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও বনকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বনাঞ্চলে ও তার আশেপাশের কৃষিজমিতে বিদ্যুতের তারের নিরাপদ উচ্চতা বজায় না রাখার ফলেই বারবার এমন মর্মান্তিক জীবনহানি ঘটছে। কিছুদিন আগেই জলপাইগুড়ির গাজলডোবায় তিস্তার চরে বিপদে পড়া মাত্র দু-তিন দিনের এক সদ্যজাত হস্তিশাবককে উদ্ধার করে বনদপ্তরের কর্মীরা নিরাপদে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত গড়েছিলেন। যেখানে প্রকৃতির বুক থেকে জীবন বাঁচানোর এমন সুন্দর গল্প তৈরি হচ্ছিল, ঠিক তার পরেই শালবনি থেকে আসা এই ট্র্যাজিক খবর পুরো রাজ্যের পরিবেশপ্রেমীদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।শালবনি ও আশপাশের জঙ্গলে হাতিদের নিয়মিত যাতায়াত থাকা সত্ত্বেও কেন বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়নি, তা নিয়ে বনদপ্তর ও বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। হাতির মতো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর এভাবে অকালে মৃত্যু রোধে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।