নিউজপোল ব্যুরো: মঙ্গলবার সকালেই কলকাতায় বড়সড় অভিযান শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের কসবা, হাইল্যান্ড পার্ক এবং হিন্দুস্তান পার্কের ঠিকানায় তদন্তকারী আধিকারিকরা পৌঁছেছেন বলে খবর। একইসঙ্গে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতেও তল্লাশি চলছে। সব মিলিয়ে কলকাতার প্রায় ১০টি জায়গায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে জানা গিয়েছে।
এই তল্লাশির পিছনে ‘Mass Art’ নামের একটি সংস্থাকে ঘিরে ওঠা আর্থিক অভিযোগই মূল বিষয় বলে জানা যাচ্ছে। ২০২২ সালে তৈরি হওয়া Mahanirban Road Mass Art Society-এর সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামও জড়িয়েছে। সংস্থাটির কাজের সঙ্গে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং টিকিট বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, UNESCO-র নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে এই অনুষ্ঠানগুলিকে সামনে রেখে টাকা তোলা হয়েছিল। অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল কলকাতার ২৪টি বাছাই করা দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল নিয়ে প্রিভিউ শো। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানের জন্য জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিট বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগকারীর দাবি ছিল, Mass Art নিজেদের UNESCO-র সঙ্গে যুক্ত বা অফিসিয়াল পার্টনার হিসেবে তুলে ধরেছিল। যদিও Mass Art-এর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় নথি থাকার কথাও জানানো হয়েছিল।
এই ঘটনায় আগেই কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পরে বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী এবং সংস্থার আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে FIR-ও হয়। অভিযোগে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারার কথা উঠে আসে। ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী পরে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। এবার সেই মামলার সূত্র ধরেই ED-র অভিযান কতটা এগোয়, সেটাই বড় প্রশ্ন। তদন্তকারীরা বিভিন্ন নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখছেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ED সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি রিপোর্টে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলার অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে। তবে এই অঙ্ক এবং অন্যান্য অভিযোগ তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।
