নিউজপোল ব্যুরো: পুজোর মেলা মানেই শুধু ঘোরাঘুরি বা কেনাকাটা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ছোট ব্যবসায়ীদের উপার্জন, পুজো কমিটির আয়ের হিসাব এবং সাধারণ মানুষের বহুদিনের আনন্দ। কিন্তু এ বছর সেই মেলার প্রস্তুতিতেই দেখা দিয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। নাগরদোলা বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন স্টল ঘিরে প্রশাসনিক বিধিনিষেধের জেরে প্রশ্ন উঠছে, উৎসবের মরসুমে নিরাপত্তা ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য রাখা যাবে কীভাবে?
প্রশাসনের যুক্তি, মানুষের নিরাপত্তা সবার আগে। মেলায় বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নাগরদোলার মতো বিনোদনের সরঞ্জাম থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি খাবারের স্টলে আগুন লাগার ঝুঁকি কমাতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নিশ্চিত করাও জরুরি। অতীতের দুর্ঘটনাগুলি এই সতর্কতার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
তবে নিয়ম কার্যকর করার সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। পুজোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর নির্দেশিকা কার্যকর হলে উদ্যোক্তাদের পক্ষে পরিকল্পনা বদলানো কঠিন। আগে থেকে চুক্তি করা ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, মেলার স্টল থেকে পাওয়া অর্থ অনেক পুজো কমিটির বাজেট সামলাতে সাহায্য করে। ফলে এই পরিস্থিতির প্রভাব শুধু ব্যবসায়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই।
নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান জরুরি হলেও, তার সঙ্গে চাই আগাম পরিকল্পনা ও সমন্বয়। সময়মতো নিয়ম জানানো এবং দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা থাকলে শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমানো সম্ভব। উৎসবের আনন্দ অটুট রাখতে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানুষের রুজির দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
