Durga Pujo 2026: থিমের জাঁকজমকে আড়ালে পড়েছে সাবেকি সাজ! ৮০-তেও তুলির টানে লড়াই রেবা পালের

অন্য রকম পূজা

নিউজপোল ব্যুরো: দুর্গাপুজো মানেই আলোর রোশনাই, থিমের চমক আর চোখধাঁধানো মণ্ডপসজ্জা। কিন্তু সেই জাঁকজমকের আড়ালে আজও নীরবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এমন কিছু শিল্পী, যাঁদের হাতের ছোঁয়ায় বেঁচে রয়েছে বাংলার সাবেকি ঐতিহ্য। তাঁদেরই একজন কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির চালচিত্র শিল্পী রেবা পাল।

বয়স ৮০ ছুঁইছুঁই। তবু প্রতিদিন হাতে তুলে নেন তুলি। প্রায় ৫০ বছর আগে স্বামী ষষ্ঠী পালের হাত ধরে এই শিল্পে হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। প্রথমে স্বামীর সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। ২২ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে নিজেই চালচিত্র আঁকতে শুরু করেন রেবাদেবী। একসময় নিজের হাতে তৈরি চালচিত্র নিয়ে পৌঁছে যেতেন কলকাতার কুমোরটুলি ও বিধাননগরের পুজো মণ্ডপে। তাঁর শিল্পকর্ম শোভা পেয়েছে কালীঘাট শ্রী সংঘ-সহ একাধিক নামী পুজোয়।

কিন্তু সময় বদলেছে। ডিজিটাল প্রিন্টের দাপটে হাতে আঁকা চালচিত্রের চাহিদা কমেছে। এখন একটি চালচিত্র তৈরি করে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পান তিনি। জীর্ণ বাড়িতে একাই দিন কাটে তাঁর। সরকারি শিল্পী-স্বীকৃতি বা বিশেষ সাহায্যও জোটেনি।

তবু থামেনি তাঁর তুলির টান। স্বামীর স্মৃতি আর শিল্পের প্রতি ভালোবাসাকে সম্বল করেই দুর্গাপুজোর আগে ব্যস্ত হয়ে ওঠে তাঁর ছোট্ট ঘর। রেবা পালের কাছে চালচিত্র শুধু পেশা নয়, বাংলার ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার এক নিরন্তর লড়াই।