নিউজপোল ব্যুরো: সীমান্তের কাঁটাতার আলাদা করে দিয়েছে দুই দেশকে। বদলে গিয়েছে যাতায়াতের পথ, থেমেছে একসঙ্গে উৎসব পালনের পুরনো রীতি। তবু দুর্গাপুজোর হাত ধরে আজও বেঁচে রয়েছে দুই বাংলার আত্মিক সম্পর্ক। মালদহের কালিয়াচক-৩ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ষষানি গ্রামের ১২১ বছরের দুর্গাপুজো সেই ইতিহাসেরই সাক্ষী।
এই পুজোর শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে অবিভক্ত বাংলায়। জানা যায়, পেশায় তাঁতি ভোলানাথ চৌধুরী বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকাকালীন দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। দেশভাগের পর ভারতে চলে আসেন তিনি। পরে স্থানীয় বাসিন্দা সুধীর জামাদার ও সুবোধ সরকারের সহযোগিতায় নতুন করে পুজোর আয়োজন শুরু হয়। সেই ঐতিহ্য আজও বহন করে চলেছেন গ্রামের মানুষ।পুজোমণ্ডপ থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব মাত্র একশো মিটার। একসময় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বাংলাদেশের বাসিন্দারাও এই পুজোয় যোগ দিতেন। পুজোকে কেন্দ্র করে বসত বড় মেলা। ওপার বাংলা থেকে মায়ের জন্য আসত বিখ্যাত দমমিশ্রি চমচম এবং তসরের শাড়ি। কিন্তু সীমান্তে বেড়া তৈরি হওয়ার পর সেই ছবিতে বদল এসেছে। এখন আর ইচ্ছা থাকলেও সহজে পুজোয় যোগ দিতে পারেন না ওপার বাংলার মানুষ।
তবে সীমান্তের কড়াকড়ি উৎসবের আনন্দে ভাটা ফেলতে পারেনি। পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে প্রতি বছর আয়োজিত হয় পুজো। বিএসএফের জওয়ানরাও চাঁদা দেওয়া থেকে শুরু করে পুজোর বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন। পাঁচ দিন ধরে চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মাকে নিবেদন করা হয় লুচি, বোঁদে ও খিচুড়ির ভোগ।
কাঁটাতার দুই দেশকে আলাদা করলেও ষষানির এই দুর্গাপুজো আজও মনে করিয়ে দেয়, উৎসবের বন্ধন ভৌগোলিক সীমানার চেয়েও গভীর। দেশভাগের স্মৃতি বুকে নিয়ে এই পুজো তাই শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, দুই বাংলার হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কেরও এক অনন্য সাক্ষী।
