নিউজপোল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর আনন্দ, উৎসব আর উমার বিদায়ের আবহের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক বিশেষ ধর্মীয় আচার—অপরাজিতা পূজা। বিজয়া দশমীর দিন দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের আগে বা ঘট বিসর্জনের পর বিভিন্ন জায়গায় এই পুজোর প্রচলন রয়েছে। কিন্তু কেন এই দিনে দেবী অপরাজিতার আরাধনা করা হয়? এর পিছনে রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস ও পৌরাণিক তাৎপর্য।
‘অপরাজিতা’ শব্দের অর্থ যাঁকে পরাজিত করা যায় না। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর এই রূপ শক্তি, বিজয় ও সাফল্যের প্রতীক। জীবনের বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে ওঠা এবং আগামী দিনে সাফল্য লাভের কামনায় ভক্তরা তাঁর পুজো করেন। দুর্গাপুজোর সমাপ্তিলগ্নে এই আরাধনার মাধ্যমে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার বার্তাও খুঁজে পান অনেকে।
পৌরাণিক মতে শ্রী রামচন্দ্রের সাথে দেবীর অকালবোধন এবং অপরাজিতার পূজা প্রথম প্রচলন করেছিলেন বলে জানা যায়। শত্রুকে দমন করতে এবং এই দেবীকে আরাধনা করে থাকেন ভক্তরা। আর শুভ শক্তিকে আগমন জানানোর জন্য এই দেবীকে বিসর্জনের দিন পূজা করা হয়।
দেবী দুর্গার বিসর্জনের ঠিক পরে শুরু হয় এই অপরাজিতা দেবীর পূজা কিন্তু খুবই কম মানুষ হয়তো জানেন দেবী অপরাজিতা পূজার কথা।যেহেতু দুর্গা পূজার পরই হয় দেবী অপরাজিতার বোধন, সেই কারণে দুর্গা পূজার দশমীতে সাদা আর নীল রঙের অপরাজিতা প্রয়োজন পড়ে। নীল অপরাজিতা ফুলের মালা পরানো হয় দেবী দুর্গাকে।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর দিন ঈশানকোণে দেবী অপরাজিতার পুজো করা হয়। পুজোয় অপরাজিতা লতা ব্যবহারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কোথাও কোথাও পুজো শেষে সেই লতা ছোট পুঁটলিতে বেঁধে ভক্তদের হাতে বা বাহুতে পরিয়ে দেওয়ার প্রথাও দেখা যায়।
ধর্মীয় ঐতিহ্যে দেবী অপরাজিতাকে বিজয় ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাই দুর্গাপুজোর শেষে তাঁর আরাধনা কেবল একটি আচার নয়, বরং শুভ সূচনা, আত্মবিশ্বাস এবং মঙ্গলের প্রত্যাশার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে।
