যে ইছামতীতে মিলত দুই বাংলা, এবার সেই নদীতেই কড়া নিরাপত্তা! বিসর্জন ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

কলকাতা

নিউজপোল ব্যুরো: ইছামতীর জল বয়ে নিয়ে যায় দুই বাংলার কত স্মৃতি, কত আবেগ। দুর্গাপুজোর বিজয়া দশমীতে টাকির এই নদীকে ঘিরেই তৈরি হত এক অন্যরকম উৎসবের পরিবেশ। এপার বাংলার প্রতিমা আর ওপার বাংলার প্রতিমা কাছাকাছি আসার সেই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাতেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিতে অনেকটাই বদল এসেছে। ঐতিহ্যের টান থাকলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে বাড়তি সতর্ক প্রশাসন।

এ বছর ইছামতীতে প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নৌকোয় যাতায়াত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, মানুষের আবেগের বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সেই কারণে নদীতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন থাকছে বিএসএফ ও এনডিআরএফ। পাশাপাশি বারাসতের ডিআইজি এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রীদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এবার অধিকাংশ প্রতিমা ঘাট থেকেই নিরঞ্জন করা হবে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ট্রলিতে চাপিয়ে ঘাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রতিমা। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিমা দুপুরের পর নৌকোয় নিরঞ্জন করা হতে পারে।

প্রতিমা নিরঞ্জনের পাশাপাশি বহু মানুষ আবেগের টানে নৌকোয় নদীতে যান। তাঁদের বিরত করার চেষ্টা করা হলেও এই উৎসবের সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিএসএফ ও এনডিআরএফ। প্রশাসন সূত্রে খবর, অধিকাংশ প্রতিমা ঘাট থেকেই নিরঞ্জন করা হবে। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিমা নৌকোয় নিয়ে বিসর্জন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

একসময় যে নদী দুই বাংলার মানুষের উৎসবের আবেগকে এক সুতোয় বাঁধত, সেখানে এবার নিরাপত্তাই প্রধান বিবেচনা। ঐতিহ্যের সেই চেনা ছবি কতটা ফিরে আসবে, তা সময়ই বলবে। তবে ইছামতীকে ঘিরে মানুষের টান যে আজও অটুট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।