নিউজ পোল ব্যুরো: স্কুল মানে যেখানে পড়ুয়াদের নিরাপদে ও স্নেহের মধ্যে পড়াশোনা করার পরিবেশ থাকে, সেই আশ্রয়স্থলেই এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠল পড়ুয়াকে মারধরের অভিযোগ। সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল নিউটাউনের (Newtown) পাথরঘাটা হাই স্কুলে। অভিযুক্ত ভূগোল শিক্ষক মিলন কান্তি পাল (Milan Kanti Pal)।
আরও পড়ুন:Santanu Sen: মেডিক্যাল কাউন্সিলে দোষী সাব্যস্ত! আর চিকিৎসা করতে পারবেন না শান্তনু সেন
ছাত্র ও তার পরিবারের অভিযোগ, ক্লাস চলাকালীন ভূগোল (Geography) শিক্ষক একটি প্রশ্ন করেন ছাত্রকে। সেই প্রশ্নের উত্তর সঠিক উত্তর দিতে না পারায় শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি ছাত্রটিকে বেধড়ক মারধর করেন। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক তাকে জোর করে তুলে আছাড়ও মারেন। যদিও এই আছাড় মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক, তবে ক্যামেরার সামনেই ছাত্রকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।ছাত্রটির পরিবার জানায়, ঘটনার পর সে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছে যে স্কুলে যেতে চাইছে না। ভয় ও অপমানের মিলিত চাপে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ কমে গিয়েছে বলেও দাবি পরিবারের। ঘটনার পরেই ছাত্রটি বাড়িতে এসে সব খুলে বলে। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে তার বাবা ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে যান টেকনো সিটি থানায় (Newtown) এবং অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ওই শিক্ষকসহ স্কুলের (Newtown) আরও কয়েকজন শিক্ষক থানায় হাজির হন। পুলিশের তরফে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই অভিভাবক মহল এবং শিক্ষামহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষকের ভূমিকা কি শুধুই শাস্তি দেওয়া, না কি পড়ুয়াকে বোঝানোর মাধ্যমে শেখানো? একজন শিক্ষক যদি নিজের রাগ সংবরণ না করতে পারেন, তবে সেই বিদ্যালয় কি আর ছাত্রদের জন্য নিরাপদ? স্কুলে শিশু নির্যাতনের এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এমন হিংসাত্মক মনোভাব কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এই ঘটনায় শিক্ষা দপ্তরের তরফে কোনও মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
