শুভম দে: এজবাস্টন টেস্টে ইতিহাস গড়েছে ভারত। ইতিহাস গড়েছেন তিনিও। ব্যাট করতে নামলেই করছেন ভুরি ভুরি রান। কিন্তু তাঁকে ঘিরেই এখন বেজায় চাপে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। তিনি আর কেউ নন স্বয়ং ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিল। কিন্তু কী এমন করলেন তিনি? যার জন্য চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বোর্ড?
আরও পড়ুন: England vs India: এজবাস্টনে ‘দীপ’ জ্বেলে গেল গিলের ভারত
হেডিংলিতে প্রথম টেস্টেও রঙিন (কালো রংয়ের) মোজা পরে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন গিল। তারপর মোজার রং বদলালেও আবার লাল রংয়ের ইনার পরে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। আইসিসির নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু এবার যা করলেন তাতে বিসিসিআইয়ের (BCCI) মাথায় হাত বললেই চলে!
ঘটনার সূত্রপাত বার্মিংহামে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের ৮৩তম ওভার। ভারত কখন ডিক্লেয়ার করে সেদিকেই নজর ছিল সকলের। অবশেষে চা বিরতির প্রায় ঘন্টাখানেক পর ৪২৭ রান করে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে ভারত। ব্যালকনি থেকে জাদেজা এবং ওয়াশিংটন সুন্দরকে ডেকে নেন অধিনায়ক। আর তখনই দেখা যায় মারাত্মক ভুল করেছেন গিল। কী ভুল?

ডিক্লেয়ার করার সময় দেখা যায় শুভমন গিলের পরনে রয়েছে একটি কালো রংয়ের ইনার। যেটি বহুজাতিক সংস্থা নাইকি ব্র্যান্ডের। কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ঝড় উঠে যায়। কারণ ভারতীয় দলের কিট স্পন্সর অন্য একটি বহুজাতিক কোম্পানি অ্যাডিডাস। ২০২৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তাদের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে বোর্ডের (BCCI)। প্রায় পাঁচ বছরের জন্য ৩০০ কোটির কাছাকাছি চুক্তি রয়েছে অ্যাডিডাসের সঙ্গে। আর বাজারে নাইকি-অ্যাডিডাস দুই বিরোধী সংস্থা। সেখানে ভারতীয় অধিনায়কের পরনে স্পন্সরের বিরোধী সংস্থার ইনার?

মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় সেই ছবি। ক্রিকেট ভক্তরা মজা করে বলতে থাকেন, “অ্যাডিডাস টিমের কিট স্পন্সর হলেও যখন তুমি অন্তর থেকে নাইকি অনুরাগী হও!” তবে বিষয়টি নিছক মজার নাও হতে পারে। এর অভিঘাত বহুদূর যেতে পারে। কারণ অ্যাডিডাস চাইলেই বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে দিতে পারে। কারণ বিশ্ববাজারে এই ঘটনা তাদের পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন নয় মোটেও। বিষয়টিকে অ্যাডিডাসের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে নাইকি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: https://youtube.com/@thenewspole?si=p1afHpHJWa5-cEhQ
ম্যাচ প্রতি প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা করে অ্যাডিডাসের থেকে পায় বিসিসিআই (BCCI)। সেখানে গিলের এইধরণের অসতর্ক কর্মকাণ্ড সমস্যায় ফেলতে পারে বোর্ডকে। সবে শেষ হয়েছে এজবাস্টন টেস্ট। সেখানে প্রথমবার জয় পেয়েছে ভারত। সিরিজে সমতা ফিরিয়ে এনেছে। অনেকেই বলছেন গিল এখনও তরুণ। প্রথমবার দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই অসাবধানতাবশত এইধরণের ভুল করে ফেলেছেন। কিন্তু সুখের মধ্যেও যেন এক ফোঁটা চোনার মত বিঁধছে গিলের নাইকি প্রীতি! এখন দেখার অ্যাডিডাস এই বিষয়ে কিছু বললে বোর্ড কীভাবে সামাল দেয়।
