নিউজ পোল ব্যুরো: কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়াকে (Nimisha Priya) বাঁচানোর জন্য চলছে শেষ চেষ্টা। যতরকম উপায় হয় ততরকম ভাবেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইয়েমেনে (Yemen) এক ব্যক্তিকে খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল কেরলের নার্স নিমিশাকে। তবে ফাঁসির ২৪ ঘণ্টা আগে মিলল স্বস্তি। প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড আগামীকাল নির্ধারিত ছিল তবে তা স্থগিত করা হয়েছে।
ইয়েমেন আদালত কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনিয়েছিল। নিমিশা প্রিয়াকে তার প্রাক্তন ব্যবসায়িক অংশীদার, একজন ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মৃতদেহ ২০১৭ সালে একটি জলের ট্যাঙ্কে পাওয়া গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল, কিন্তু মঙ্গলবার ভারত সরকার সূত্র জানিয়েছে যে তাকে শেষ মুহূর্তের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ২০২০ সালে রাজধানী সানার একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং তার পরিবার তখন থেকেই তার মুক্তির জন্য লড়াই করে আসছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। সরকার, যা এই বিষয়ে সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদান করে আসছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে নিমিশা প্রিয়ার পরিবারকে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর জন্য আরও সময় দেওয়ার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়েছে। সংবেদনশীলতা জড়িত থাকা সত্ত্বেও, ভারতীয় কর্মকর্তারা স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষ এবং প্রসিকিউটর অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। যার কারণেই এই স্থগিতাদেশ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেই সূত্র জানিয়েছে। নিমিশা বর্তমানে ইয়েমেনের হুথিদের রাজধানী সানায় আছেন।
প্রসঙ্গত, কেরলের পালক্কাড় জেলার বাসিন্দা নিমিশা (Nimisha Priya) ২০০৮ সালে ইয়েমেনে গিয়েছিলেন ইয়েমেনে গিয়েছিলেন। সেখানেই স্বামী টমি টমাস ও মেয়েকে নিয়ে করতেন বসবাস করতেন। ২০১৪ সালে তাঁর স্বামী এবং ১১ বছরের কন্যা ভারতে ফিরলেও ইয়েমেনেই থেকে যান নিমিশা। নিজের ক্লিনিক খোলার ইচ্ছা ছিল নিমিশার। সেই সময়েই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আব্দো মাহদির। ইয়েমেনি নাগরিক নিমিশাকে সাহায্যও করেন। ২০১৫ সালে তারপর শুরু হয় ব্যবসা। কিন্তু ব্যবসা শুরু হলেও দুই অংশীদারের মতবিরোধ দেখা দেয়। এমনকি মাহদি নামের অই ব্যক্তি অন্যায় ভাবে ছলচাতুরি করে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিমিশাকে নিজের স্ত্রীর পরিচয় দেয়। বন্ধ করা হয় নিমিশার প্রশাসনিক সাহায্য। অভিযোগ অত্যাচারও করা হত। তা থেকে বাঁচতেই মাহদিকে ঘুমের ওষুধ দেয় কেরলের নার্স। ঘুমের ওষুধের ওভার ডোজে মৃত্যু হয় মাহদির। তারপরেই সেই দেহ লোপাটে করতে টুকরো টুকরো করে কেটে বাড়ির জল ট্যাঙ্কে ফেলে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে নিমিশা। পালাতে গিয়ে ধরা পরে যায়। নিমিশাকে ২০১৮ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয় ২০২০ সালে । হুথিদের ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ২০২৩ সালে সেই সাজা বহাল রাখে। ২০২০ সালে প্রিয়ার মুক্তির জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে আলোচনার জন্য একদল কর্মী এবং আইনজীবী সেভ নিমিশা প্রিয়া অ্যাকশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। আলোচনা একটি চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়ায় কারণ ইয়েমেনে কোনও ভারতীয় দূতাবাস নেই, কোনও মিশন না থাকায়। তবুও ভারত সরকার যথা সাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রাণদন্ড রোধে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
