Lord’s Test: আম্পায়ারিং ইস্যুতে বাড়ছে ক্ষোভ! কিন্তু পরিসংখ্যান কী বলছে?

ক্রিকেট ক্রীড়া

শুভম দে: লর্ডস টেস্ট (Lord’s Test) শেষ হয়েছে সোমবার। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ২২ রানে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। কিন্তু সেই ম্যাচের উত্তাপ যেন কিছুতেই কমছে না। মাঠের মধ্যেই একাধিকবার নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের ক্রিকেটাররা। আম্পায়ারের সঙ্গে‌ও বারবার তর্কে জড়ান ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ভারতের বিরুদ্ধে বারবার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেওয়ায় ফের কাঠগড়ায় অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন পেসার ও অভিজ্ঞ আম্পায়ার পল রেইফেল। রবিচন্দ্রন অশ্বিন তাঁর একাধিক সিদ্ধান্তকে “অসংগতিপূর্ণ” বলে কটাক্ষ করলেন। পরিসংখ্যানও বলছে, ভারতের বিপক্ষে রেইফেলের রায়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: Lord’s Test: হে লর্ডস, তোমার ঐতিহাসিক অনার্স বোর্ডে কি লেখা থাকবে তিন যোদ্ধার মহাকাব্যিক লড়াইয়ের উপাখ্যান?

লর্ডস টেস্টে (Lord’s Test) একাধিক এলবিডব্লিউর আবেদন অস্বীকার করেন রেইফেল। বিশেষত জো রুটের বিরুদ্ধে ভারতের তরফে করা একটি আর্জি প্রথমে নাকচ করেন তিনি, পরে ডিআরএস-এ দেখা যায় বল পরিষ্কারভাবে স্টাম্পে আঘাত করছিল। এই ধরণের সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তিতে ক্ষুব্ধ অশ্বিন তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ শেষে সরাসরি বলেন, “রেইফেলের সঙ্গে কথা বলতে চাই। ভারত বল করলেই উনি আউট দিতে ভুলে যাচ্ছেন। অথচ ব্যাট করার সময় ঘটছে উল্টোটা। আমি বলছি না সব আউট দিতে। কিন্তু সিদ্ধান্তে সামঞ্জস্য থাকা উচিৎ। আইসিসির উচিৎ বিষয়টির দিকে নজর দেওয়া।”

পরিসংখ্যান বলছে, পল রেইফেল ভারতের ম্যাচে অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন মোট ৩৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে। এর মধ্যে আছে ১৪টি টেস্ট, ২০টি ওয়ানডে এবং ৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। যার মধ্যে ওয়ানডে ম্যাচে ভারত জয় পেয়েছে ৭৫% ম্যাচে, টি-টোয়েন্টিতে জয় ৩টিতে। কিন্তু টেস্ট ম্যাচে ছবিটা একেবারেই উল্টো। তাঁর উপস্থিতিতে ১৪টি টেস্টে ভারত জিতেছে মাত্র ৫টিতে।

সব মিলিয়ে রাইফেল মাঠে থাকলে ৩৯টির মধ্যে ২৩টি ম্যাচে জয় পেয়েছে ভারত। শতাংশের হিসেবে যা ৫৯%। ডিআরএস পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে রেইফেলের আম্পায়ারিংয়ে ২১টি ‘আম্পায়ার্স কল’ -এর মধ্যে ১১টি ভারতের পক্ষে গিয়েছে। রিভিউয়ে বদলে যাওয়া ৩৩টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ১৯টি গিয়েছে ভারতের পক্ষে, বাকি ১৪টি প্রতিপক্ষের পক্ষে।

লর্ডস টেস্টে (Lord’s Test) রেইফেলের আম্পায়ারিং আরও একবার বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। ম্যাচ চলাকালীন তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ১১টি রিভিউ নেওয়া হয়, যার মধ্যে ১০টিই নিয়েছিল ভারত। এর মধ্যে ৭টি রিভিউতেই সফল হন অধিনায়ক গিল। বাকি চারটি যায় ইংল্যান্ডের পক্ষে।

শুভমান গিলের আউট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অশ্বিন। বলেন, “ব্যাট আর বলের মাঝখান দিয়ে আমার সেডান গাড়ি গলে যেত। খালি চোখেই বোঝা যাচ্ছিল ওটা আউট নয়। বাবা আমার সঙ্গে বসে খেলা দেখছিলেন। উনিও বলেন, “পল রেইফেল থাকলে ভারত জিতবে না।” শুধু অশ্বিন নন, সরব হয়েছেন অনিল কুম্বলে-ও। তিনি বলেন, “মহম্মদ সিরাজের বলে জো রুট এলবিডব্লিউ হলেন। ডিআরএস-এ দেখা গেল বল স্টাম্পে লাগছে, কিন্তু আম্পায়ার্স কলের কারণে বেঁচে গেলেন রুট। মনে হচ্ছে পল রাইফেল ঠিক করে নিয়েছেন, কিছুতেই আউট দেবেন না। যতই কাছাকাছি হোক, তিনি বলবেন ‘না’।” এমনকি মাইক আথারটন ও নাসের হুসেনের মতো প্রাক্তন ইংল্যান্ড ক্রিকেটাররাও বলেছেন ক্রিকেটাররা যখন বারবার সময় নষ্ট করছিল, তখন আম্পায়ারদের আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: https://youtube.com/@thenewspole?si=3RbPY-v2mbTF2ieH

ভারতীয় ক্রিকেটমহল ও সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে ক্ষোভের স্রোত। অনেকেই বলছেন, কোনও নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং থাকল না লর্ডসে। যদিও আইসিসি বা ম্যাচ রেফারির তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিতর্ক নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।