নিউজ পোল ব্যুরো : পহেলগাঁও হামলার পর সশস্ত্র বাহিনী উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খোঁজে চলছে চিরুনি তল্লাশি। ভারতের মাটিতে রক্ত ঝরানোর বদলা হিসেব করে দেওয়া হচ্ছে সন্ত্রাসবাদীদের। জঙ্গিদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারতীয়দের রক্ত ঝড়ালে তার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে। গত সোমবারে অপারেশন মহাদেবে নিকেশ করা হয়েছে পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড মুসা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুই জঙ্গিকে। সন্ত্রাসবাদ দমনে অপারেশন মহাদেবের (Operation Mahadev) পর এবার উপত্যকায় শুরু হয়েছে ভারতীয় সেনার শিবশক্তি (Operation Shiv Shakti) অভিযান।
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে পহেলগাঁও হামলার পর ১০০ দিনে ১২ জন মোস্ট-ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীকে নির্মূল করা হয়েছে। নিহত ১২ জনের মধ্যে ছয়জন পাকিস্তানি জঙ্গি ছিল এবং বাকিরা জম্মু ও কাশ্মীরে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত স্থানীয় ছিল। এছাড়াও, ৬-৭ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানে ভারতীয় সেনাবাহিনী ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে হত্যা করেছে। মে মাস থেকে, বহু-সংস্থা সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী মহড়া শুরু হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল অপারেশন মহাদেব সেখানেই পহেলগাঁওতে ২৬ জনকে ধর্ম জেনে খুন করার সঙ্গে জড়িত তিন জঙ্গি নিহত হয়। ২৮ জুলাই, শ্রীনগরের দাচিগাম এলাকার কাছে সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের যৌথ অভিযানে লস্কর-ই-তৈবার সন্ত্রাসবাদী সুলেমান, আফগান এবং জিবরান নিহত হয়। পরের দিনই, শিবশক্তি (Operation Shiv Shakti) নামে আরেকটি অভিযান চালানো হয় যেখানে সেনাবাহিনী আরও দুই সন্ত্রাসীকে খতম করে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, “যদি আমরা এই অভিযানের সংখ্যা নিয়ে কথা বলি, তাহলে সংখ্যা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে সমস্ত ইউনিট তাদের নিজ নিজ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করছে।” পহেলগাঁও হামলার পর প্রথম সপ্তাহে চারটি বড় সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযান শুরু করা হয়েছিল। অভিযানগুলি মূলত দক্ষিণ কাশ্মীরের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল, যার মধ্যে শোপিয়ান এবং পুলওয়ামা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মে মাসের মাঝামাঝি পরে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান শুরু হয়েছিল। শোপিয়ানের কেলার ফরেস্টে একটি অভিযানে তিন লস্কর সন্ত্রাসী নিহত হয়। ১৫ মে, ত্রালের নাদের এলাকায় আরেকটি অভিযানে আরও তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, পহেলগাম হামলার আগে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) ৪২টি সন্ত্রাসী লঞ্চ প্যাড সক্রিয় ছিল, যেখানে ১১০-১৩০ জন সন্ত্রাসী আশ্রয় নিয়েছিল। কাশ্মীরে প্রায় ৭০-৭৫ জন সন্ত্রাসী সক্রিয় ছিল, যেখানে জম্মু, রাজৌরি এবং পুঞ্চে ৬০-৬৫ জন সন্ত্রাসী উপস্থিত ছিল।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
