Donald Trump: তেল-কূটনীতি নিয়ে তোপে ট্রাম্প! সতর্কবার্তা এল নিজের দলের অন্দর থেকেই

আন্তর্জাতিক

নিউজ পোল ব্যুরো: ‘ভারতের (India) মতো বন্ধুর সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ চলবে না’ এভাবেই খোলা বার্তা দিলেন প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও রিপাবলিকান নেত্রী নিকি হ্যালি (Nikki Haley)। উদ্দেশ্য একটাই, ট্রাম্পকে (Donald Trump) বাস্তবের মাটিতে নামানো। সম্প্রতি রাশিয়া (Russia) থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ঘটনায় ভারতকে কার্যত শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তার দাবি, ভারত রাশিয়ার (Russia) সঙ্গে লেনদেন করে ইউক্রেন যুদ্ধকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তাই আমেরিকার (America) সঙ্গে বাণিজ্যে তারা যুক্তিসংগত আচরণ করছে না এবং এই অবস্থায় ভারতের উপর ২৫% শুল্ক আরোপ করাও যুক্তিযুক্ত।

আরও পড়ুন: Brahmos Missile : ‘পাকিস্তান আবার কোনও পাপ করলে উত্তরপ্রদেশে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র জঙ্গিদের নিকেশ করবে’ হুঁশিয়ারি মোদীর

কিন্তু এখানেই থামেননি তিনি। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই শুল্ক আরও বাড়ানো হবে। ট্রাম্পের (Donald Trump) কথায়, “ভারত আমাদের বন্ধু নয়, কারণ তারা আমাদের থেকে নেয় অনেক কিছু, কিন্তু দেয় সামান্যই।” এই অবস্থানে শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতি নয়, নিজের দলের মধ্যেও বিতর্কের ঝড় তুলেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই বেপরোয়া ভঙ্গিমায় বিরক্ত তার নিজস্ব দল, রিপাবলিকান পার্টিও। মুখ খুলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী নেত্রী নিকি হ্যালি (Nikki Haley)।

নিকির কড়া বার্তা,“চিন (China) যে আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের তেলের উপর ৯০ দিনের শুল্কছাড় দেওয়া হচ্ছে, অথচ ভারত যে দীর্ঘদিনের বন্ধু—তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ কূটনৈতিক অদূরদর্শিতা।” নিকির আরও বক্তব্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনে, তাও তাদের স্বার্থে। কিন্তু সেই তেল তারা অধিকাংশই বিক্রি করে মুনাফা করছে, এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। তুলনায় চিন রাশিয়া ও ইরান থেকে সর্বাধিক পরিমাণ তেল আমদানি করছে, তবু আমেরিকা তাদের ছাড় দিচ্ছে।

নয়াদিল্লির (New Delhi) কড়া প্রতিক্রিয়া, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাবে ভারতও চুপ থাকেনি। বিদেশমন্ত্রক সাফ জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার অধিকাংশ পণ্য ইউরোপমুখী হয়ে পড়ে। তখনই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি শুরু করে। শুধু তাই নয়, সে সময় আমেরিকা নিজেই ভারতকে রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্যে উৎসাহিত করেছিল। এ কথাও মনে করিয়ে দেয় দিল্লি। তবে ভারত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে তোলে, “আমেরিকাও কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করে। ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, প্যালাডিয়াম, রাসায়নিক সার এসব পণ্যে তাদের নির্ভরতা আজও রাশিয়ার উপর।”

ভারতের অবস্থান স্পষ্ট যে, জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখেই পররাষ্ট্র নীতি গঠিত হবে, বাইরের চাপ নয়। তবে, সম্পর্কের ছেঁড়া সুতো কি আবার জোড়া লাগবে? ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান যে ভারত-মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্ককে চাপে ফেলছে, তা এখন স্পষ্ট। তবে তার দলের অভ্যন্তর থেকেই যে ধরনের প্রতিবাদ আসছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে। সবই এখনও শেষ হয়নি। সময় বলবে, সম্পর্ক আবার পুরোনো বন্ধুত্বের রূপ পাবে কিনা। তবে আপাতত, ‘বন্ধুর মতো নয়, শত্রুর মতো আচরণ’ ট্রাম্পের জন্যই বুমেরাং হতে শুরু করেছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole