নিউজ পোল ব্যুরো: আজ রাখি। দেশজুড়েই বোনেরা তাঁদের ভাইদের হাতে সুরক্ষার বন্ধন (Raksha Bandhan) হিসেবে রাখি বেঁধে দিয়েছেন। সেই রাখি পূর্ণিমাতেই সামনে এল এক ভালো করা ছবি। এই ছবির পিছনে থাকা গল্প মন কেড়েছে সকলের। এটা মুম্বইয়ের পনেরো বছর বয়সী অনমতা আহমেদ এবং শিবম মিস্ত্রির গল্প যাদের মধ্যে গত বছর পর্যন্ত দূরেরও কোনও সম্পর্ক ছিল না তারাই আজ ভাই বোন। নেপথ্যের গল্প হৃদয় ছোঁয়া। তাঁরা একে অপরকে শক্তি দিয়েছিলেন এবং মনের ক্ষত সারিয়েছিলেন। শনিবার হিন্দু ও মুসলিম দুটি পরিবার আনন্দের সঙ্গে রাখি বন্ধন অনুষ্ঠান পালন করেন। এই ঘটনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বোধ জাগিয়ে তোলার সেই ইচ্ছাকেই আরও একবার মেলে ধরেছে। যার জন্য শুরু হয়েছিল রাখি বন্ধন অনুষ্ঠান।

অনমতা শিবমকে রাখি পরিয়ে বলেন, “আমার কোনও ভাই নেই এবং শিবম তার একমাত্র বোনকে হারিয়েছে। এখন থেকে, শিবম আমার ভাই এবং আমি তার বোন। আমি প্রতি বছর তাকে রাখি বাঁধব। আমার মনে হয় না যে আমি প্রথমবারের মতো তার পরিবারের সাথে দেখা করছি। সবাই আমাকে এত ভালোবাসা দিয়েছে।” অনমতা এবং শিবমের “ভাইবোনের” সম্পর্ক শুরু গত বছর থেকে। যখন শিবমের একমাত্র বোনের হাত প্রতিস্থানপন করা হয় অনমতার হাতে।
জেনে নিন কিভাবে শুরু শিবম-অনমতার ভাইবোনের এই সম্পর্ক…
২০২২ সালের ৩০শে অক্টোবর উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ১১,০০০ কিলোওয়াটের হাই-টেনশন তারের সংস্পর্শে অনমতার ডান হাত নষ্ট হয়ে যায়। কেটে ফেলতে হয় হাত। মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ের বাসিন্দা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাম হাত বাঁচাতে সক্ষম হন কিন্তু দুর্ঘটনার পর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক কষ্ট ভোগ করেন। সেই ঘটনার দুই বছর পর ১৪ সেপ্টেম্বর, প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে, গুজরাটের ভালসাদের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রিয়া হঠাৎ বমি শুরু করলে এবং অসহনীয় মাথাব্যথা নিয়ে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে যাওয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে সুরাটের কিরণ হাসপাতালে ভর্তি করা । সেখানে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু কিন্তু রিয়ার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নতুন জীবন দানে দিতে সক্ষম ছিল। রিয়ার পরিবার এবং ভালসাদের বিখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ঊষা মাশরি এটি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তাঁরা রিয়ার অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন: Raksha Bandhan Platter: রাখিতে মিষ্টির বাইরে কি থাকতে পারে? ভাইয়ের প্লেট সাজাতে কি কি থাকছে মেনুতে!
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ঊষা মাশরি রিয়ার মা তৃষ্ণা এবং তার স্বামী ববিকে অঙ্গদানের কথা বিবেচনা করতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। রিয়ার দুটি কিডনি, লিভার, হাত, ফুসফুস, অন্ত্র এবং কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। দম্পতি অঙ্গদানের সাথে সম্পর্কিত একটি বেসরকারি সংস্থার সাথে দেখা করেন এবং এই বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়। কয়েকদিন পরে, রিয়ার ডান হাত কেটে মুম্বই পাঠানো হয়। ডোনেট লাইফ এনজিওর সভাপতি নীলেশ মান্ডলেওয়ালার মতে, পরবর্তীতে গ্লোবাল হাসপাতালে অনমতার শরীরে এটি প্রতিস্থাপন করা হয়। অনমতাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী শিশু যার এইভাবে কাঁধ থেকে হাতে অস্ত্রপ্রচার করা হয়। তখন থেকেই শিবমের বোন রিয়ার হাত সংযুক্ত হয় অনমতার সঙ্গে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সেই ঘটনার পর শনিবার, ভালসাদের তিথাল বিচ রোডে অনমতা এবং শিবমের পরিবার যখন দেখা করে তখন তারা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। অনমতা ভাই শিবমের হাতে ভালোবেসে রাখি (Raksha Bandhan) পরিয়ে দেন। রাখি বাঁধার পর শিবম বলে, “আমার মনে হচ্ছিল যেন আমার হাতে আমার প্রিয় বোন রিয়া রাখি বাঁধছে।” অন্যদিকে অনমতা বলেন,”এখন থেকে, আমি অনমতার পাশাপাশি রিয়াও।” এক মেয়েকে হারিয়ে শিবমের মা’ও অনমতাকে বুকে টেনে নেন। আবেগপ্রবণ শিবম এবং রিয়ার মা তৃষ্ণা মিস্ত্রি বলেন, “আমরা আমাদের মেয়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছি না কিন্তু অনমতাকে দেখে আমাদের আনন্দ হয়। এক মেয়ে হারানোর পর, আমরা আরেকটি মেয়ে পেয়েছি। সে কতটা খুশি এবং সে কতটা ভালো জীবনযাপন করছে তা আমাদের সান্ত্বনা দেয়।”
