নিউজ পোল ব্যুরো: ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক তোলপাড়। ভোটচুরির বিস্ফোরক অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। আর তার সেই দাবিকে ঘিরেই এবার বড়সড় রাজনৈতিক চাল ফেলতে চলেছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। সূত্রের খবর, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে তারা।
রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) অভিযোগ, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক এবং হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলিতে ভুয়ো ভোট, তথ্য কারচুপি এবং ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে। এমনকি বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরা এলাকা থেকে লক্ষাধিক ভোট নাকি উধাও! তার দাবি, এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে নির্বাচন কমিশনের মদতে শাসকদল বিজেপি।
এই গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ খোলেন নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমার। তিনি রাহুল গান্ধীর সমস্ত অভিযোগকে “ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর” বলে নস্যাৎ করে দেন। শুধু তাই নয়, কড়া ভাষায় রাহুলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। সাত দিনের মধ্যে সমস্ত অভিযোগের প্রমাণ-সহ হলফনামা দিতে হবে, না হলে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বিরোধীরা। কংগ্রেসের ইমরান প্রতাপগড়ী জানিয়েছেন, তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (Chief Election Commissioner) ভূমিকা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাই তাকে অপসারণের জন্য সংবিধানের ৩২৪(৫) ধারা অনুসারে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে বাস্তবটা হল, সংসদের দুই কক্ষে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস করাতে গেলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, যা বিরোধীদের নেই। কিন্তু রাজনৈতিক বার্তা দেওয়াই এই মুহূর্তে বিরোধীদের লক্ষ্য বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ভোটচুরি বিতর্কে উত্তপ্ত দেশের রাজনীতি। এখন দেখার, এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব কেবল প্রতীকী প্রতিবাদ হয়ে থেকে যায়, নাকি ভবিষ্যতের জন্য বড় কোনও দৃষ্টান্ত তৈরি করে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
