নিউজ পোল ব্যুরো: সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সূত্র মেলায় দিল্লির আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে, এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিজ (এআইইউ)। সংস্থার নীতি অনুযায়ী, যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সুশিক্ষা ও নৈতিকতার পথে থাকতে হবে। কিন্তু আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় সেই আদর্শ থেকে সরে এসেছে বলে মনে করছে এআইইউ। তাই আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়টির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ফলে তারা এখন থেকে এআইইউ-র নাম, লোগো বা কোনও সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে না।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধারের পর যে চক্রের সন্ধান মিলেছে, তার সঙ্গেই যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসক আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে দিল্লিতে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যাতে আত্মঘাতী জঙ্গি উমর নবি-র নাম উঠে আসে যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বলে জানা গেছে। গত কয়েক দিনে নাশকতার অভিযোগে অন্তত আটজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং প্রত্যেকেরই কোনো না কোনোভাবে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।
এই ঘটনাগুলির পরই বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিল (এনএমসি) জানিয়েছে, তারাও আলাদা তদন্ত শুরু করবে এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও বিতর্কের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হাসপাতালের কর্মী ছিলেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামোর সঙ্গে তাঁদের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পথচলা শুরু করলেও ২০১৪ সালে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়। কাশ্মীরসহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বহু ছাত্র ও চিকিৎসক এখানে পড়াশোনা করতেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শিক্ষা জগতে এই ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে সন্ত্রাসের সঙ্গে নাম জড়িয়ে ফেলল, সেটিই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
