নিউজ পোল ব্যুরো: বিহারের(Bihar) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) নিয়ে ফের উত্তাল রাজনীতি। একদিকে নির্বাচন কমিশন (ECI) দাবি করছে ২০০২–০৩ সালের নিবিড় সংশোধনই নাকি আজকের প্রক্রিয়ার ভিত্তি। অন্যদিকে, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ও দলিল ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে একেবারেই ভিন্ন ছবি। তাই আজ সুপ্রিম কোর্টে(Supreme Court)যে শুনানি চলছে, তা শুধু ভোটার তালিকা নয়, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অক্টোবর-নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা। তার আগে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নেই এখন আদালত। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ কম সময়ে দলিলপত্র জোগাড় করা সাধারণ ভোটারের পক্ষে কঠিন, আর নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মতো বিষয়ে প্রবেশ করছে যা তার সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে।
২০০২–০৩ সালে প্রক্রিয়াটি চলেছিল প্রায় আট মাস ধরে। এবার সবকিছু গুটিয়ে নিতে হবে ৯৭ দিনের মধ্যে। বিরোধীদের অভিযোগ, এতে নতুন ভোটার বা প্রান্তিক মানুষদের তালিকাভুক্তি কার্যত অসম্ভব।কমিশনের মতে, ২০০৩ সালের তালিকায় যাদের নাম ছিল, তাদের নাগরিকত্ব ধরে নিতে হবে। অথচ তখনকার সংশোধনে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ফলে এখন ২০০৩-কে মানদণ্ড হিসেবে ধরা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।২০০২–০৩ সালে EPIC কার্ড ছিল যাচাইয়ের মেরুদণ্ড। কিন্তু এবার কমিশন বলছে, EPIC প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের প্রস্তাবও তাই খারিজ করে দিয়েছে।
বিরোধী দলগুলি মনে করছে, এত অল্প সময়ে বিশেষ সংশোধন চালু করা মানে আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় গোপন খেলা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার তালিকায় কারচুপি চলছে। এ নিয়ে এখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের প্রাণ। সেটি সঠিকভাবে তৈরি না হলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) রায় তাই শুধু বিহারের(Bihar) নির্বাচন নয়, সারাদেশের ভোটার অধিকার রক্ষায়ও নজির স্থাপন করতে চলেছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
