Sack Ministers Bill: কেজরিওয়ালের নেওয়া এক পদক্ষেপই কেন্দ্রকে ‘প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণ বিল’ আনতে বাধ্য করেছে, খবর সূত্রের

দেশ

নিউজ পোল ব্যুরো: ৩০ দিন জেলে থাকলেও অপসারণ (Sack Ministers Bill) করা হবে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী সহ মন্ত্রীদের। লোকসভায় বিল পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বিল নিয়ে দেশজুড়ে ঝড় উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগড়ে বলেছেন এই বিল পাশ হলে কোনও অভিযুক্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে না। কিন্তু কেন এই ধরনের বিল আনল কেন্দ্র? সেই উত্তরই সামনে এসেছে। সূত্রের খবর দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এক সিদ্ধান্তের জন্যই এই ধরনের বিল আনতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র।

দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গত বছর আবগারি দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। গুরুতর অপরাধের অভিযোগে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি ছিলেন। জেল থকেই চালান সরকার। আম আদমি পার্টি (AAP) স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে জেলে গেলেই কেজরিওয়াল শীর্ষ পদটি ধরে রাখবেন এবং সেই সময় মন্ত্রিসভার তার সহকর্মীরা তার পক্ষে সরকার পরিচালনা করেছিলেন। সেপ্টেম্বরে জামিন পাওয়ার পরই তিনি পদত্যাগ করেন এবং বলেন যে “জনগণের আদালত” অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের রায়ের পরে তিনি আবার এই পদে ফিরে আসবেন। ঠিক এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের অপসারণের জন্য কেন্দ্র একটি আইন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনটাই তথ্য জানিয়েছে শীর্ষ সরকারি সূত্র। সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, কেজরিওয়াল গ্রেফতারের পর পদত্যাগ করতে অস্বীকার করার পরই কেন্দ্র আইনটি আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে আইনটি চালু করা বিরোধীদের দ্বারা ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ হিসেবে প্রচারিত হত। তাই সরকার অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। অবশেষে, দিল্লির নির্বাচনে কেজরিওয়ালের দলকে ভোটে পরাজিত করা হয়।

আরও পড়ুন: PM Modi: কলকাতা সফরের আগে এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলকে নিশানা করে উন্নয়নের বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শুধু কেজরিওয়ালের ঘটনা নয় সরকারকে আইনটি আনতে বাধ্য করার আরেকটি মামলা হল তামিলনাড়ুর মন্ত্রী সেন্থিল বালাজির মামলা। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় ডিএমকে মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারে বালাজি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যান। মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী “সাংবিধানিক প্রহসন”। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। ডিএমকে নেতা ২০২৪ সালে জামিন পান এবং আবার মন্ত্রী হন। চলতি বছরের এপ্রিলে, সুপ্রিম কোর্ট একটি আবেদনের শুনানি করে যেখানে মন্ত্রীর সাক্ষীদের ভয় দেখানোর সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছিল এবং বালাজিকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। অবশেষে, তিনি আবার পদত্যাগ করেন। সূত্র জানিয়েছে যে সরকার বিশ্বাস করে যে এই “তামাশা বন্ধ করা দরকার। সংবিধানের রচয়িতারা ভাবতেই পারেননি যে মুখ্যমন্ত্রীরা বা গ্রেফতার মন্ত্রীরা জেল থেকে সরকার চালাতে চাইবে।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রতিটি কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন এমন সংবিধান সংশোধনী বিলটি সংসদে পাস করার জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই । তাহলে সরকার কেন বিলটি আনল? সূত্র বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো রাজনীতিতে দুর্নীতির উপর আলোকপাত করা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে ধারণার লড়াই চালানো।