Share Market: ভারতীয় শেয়ার বাজার সামান্য টেনশনে

ব্যবসা-বাণিজ্য

তপন কুমার দে, কলকাতা: সম্প্রতি ভারতের শেয়ার বাজারে সেনসেক্সের (Sensex) নিচের দিকে চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পকেই দায়ী করা যায়। তাঁর ক্রমাগত ভুলভাল বকে যাওয়া এবং ট্যাঁরিফ(tariffs)ফের ৫০ % বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে ভারতীয় শেয়ার বাজার (Share Market) বা স্টক মার্কেট ১ % হ্রাস পেয়েছে। এই কারণে মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জ একটু দোলাচলে দুলছে। তবে ট্রাম্পকে ইতিমধ্যেই তাঁর নিজের দেশেই সমালোচিত হতে হচ্ছে। ইউনাইটেড স্টেটস আইন বিভাগ এই ট্যারিফ (tariffs) বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে দিয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে ভারতের স্থিতিশীলতা যে দৃঢ়তার মধ্য দিয়ে চলেছে। তাতে ভারতের শেয়ার বাজারের (Share Market) বিনিয়োগ কারীদের একটু ধৈর্য ছাড়া আর কিছু দরকার নেই। আমেরিকার (America) বিশ্বব্যাপী দাদাগিরির মূল উৎস কি?

আরও পড়ুন: Gold And Silver Rate: রেকর্ড দামে সোনা-রুপো, পুজোর আগে গয়না কেনায় ধাক্কা ক্রেতাদের

গত ৫০ বছর ধরে আমেরিকার গতিপ্রকৃতি নজর করলে দেখা যাবে। আমেরিকা সারা বিশ্বের যেখানে প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ঝামেলা। কিংবা আভ্যন্তরীণ গণ্ডগোল– সেখানেই নাক গলিয়ে দেবে আমেরিকা। হয় জ্ঞান দেবে, নাহয় অস্ত্র বিক্রি করবে। আর সারা বিশ্বের এক বিরাট অংশের দেশেরও নাচার অবস্থা। সব কিছুর মুলে হল ডলার। বিশ্ববাজারের ৯৬ % চলে ডলারের মাধ্যমে। ভারতের টাকা একসময় বিশ্বের অনেক দেশেই চালু ছিল। ভারতের পরাধীনতার সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যে সব দেশে বাণিজ্য করত, স্বাধীনতার পরেও বহু আরব দেশগুলিতে চলত ভারতীয় টাকা (indian currency)। সেই সুখের দিন ভারতের চলে যায় ১৯৬৩-১৯৬৫ সালে পরপর চিনের সাথে যুদ্ধ, পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ আর ভারতের খরা। ফলে এক ধাক্কায় ডলারের বিনিময় মূল্য কমে যায় সাড়ে তিনটাকা। টাকার দাম পড়ে যাওয়ায় বাইরের দেশগুলিও ভারতীয় টাকা ব্যবহার বন্ধ করে দিয়ে নিজেদের কারেন্সি বানাতে শুরু করে। সেই সুখের দিন যে আবার ফিরবে না কে বলতে পারে?

বেশ কিছু বছর ধরে ভারত ব্যবসার ক্ষেত্রে ভারতীয় টাকার বিনিময় মাধ্যমে করছে। ডলারের বদলে টাকার মাধ্যমে বাণিজ্য করলে ডলারের বিনিময় চার্জ দিতে হয়না। আমদানি এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ডলারের চার্জ বেঁচে যাওয়া খুবই কার্যকরী ও লাভজনক। এরই পাশে একদিকে ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলির সংখ্যাও কম নয়। শেষ ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ব্রিকস মুদ্রার কথা তুলেছিলেন। ঠিক করা হচ্ছিল ব্রিকস মুদ্রার বিনিময় মুল্যের মুল্যায়ন নিয়েও। সেই সময় আলোচনা হয়েছিল ব্রিকসের মূল্য নির্ধারণ হবে সেই দেশের সোনার ক্ষমতার উপর এবং ডলারের বাজারদর দেখে। সেই সিদ্ধান্ত ফাইনাল করা না হলেও ভারত সোনা সংগ্রহের উপর আলাদা জোর দিয়েছিল। ফলে ইতিমধ্যেই সোনা সংগ্রহের নিরিখে ভারত একেবারে প্রথম সারিতে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

একদিকে টাকাতেই বেশকিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের বিনিময় হচ্ছে। এরপরে যদি ব্রিকস-র (Bricks)মাধ্যমও যুক্ত হয় তাহলে আমেরিকাকে ধাক্কা দেওয়া যাবে বিশাল জোরে। সারা বিশ্বে ব্রিকস (Bricks) ভুক্ত দেশের সংখ্যাও খুব কম নয়। সবার মিলিত চাপে আমেরিকান ডলারের যে কোণঠাসা অবস্থা হবে সেকথা অনায়াসেই বলা যায়।
যে প্রসঙ্গে এই সব বিষয়গুলির আলোচনা তাহল ভারতের শেয়ার বাজারের সেনসেক্স ৭০০ পয়েন্ট ঘাটতি। যার অর্থ ১ শতাংশ পড়ে যাওয়া। শেয়ার বাজারে যারা কেনাবেচা করেন তাদের কাছে বাজারের ওঠানামা যে কোন থ্রিলিং মুভির চাইতে কম নয়। আর সেক্ষেত্রে বাজারের গতিপ্রকৃতি নজরে রাখতে হয় শকুনের মত (এছাড়া অন্য শব্দ পেলাম না)। একদিকে নজর অন্যদিকে ধৈর্য। এই দুটিই বড় গুণ শেয়ার বাজারে টিকে থাকার। ভারতের সুদিন ফেরা শুধু সময়ের অপেক্ষা। শেয়ার বাজারের (Share Market) এই অবতরণ একেবারেই সাময়িক। খালি একটু খেয়াল রাখতে হবে- সেনসেক্সের ওঠাপড়া যেন গায়ে না লাগে।