নিউজ পোল ব্যুরো: বন্ধুতা অটুট, কিন্তু হতাশা চাপা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ফের মুখ খুললেন ভারতের প্রতি তার অসন্তোষ নিয়ে, যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) তিনি এখনও ‘বন্ধু’ বলেই সম্বোধন করছেন। একদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশংসা, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় স্পষ্ট বিরক্তি! এই দ্বৈত বার্তাই এখন ট্রাম্পের কূটনৈতিক ভাষ্যে স্পষ্ট।
আরও পড়ুন: UN Session: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে এবার অনুপস্থিত মোদী, কূটনৈতিক বার্তা ট্রাম্পের উদ্দেশেই?
সম্প্রতি ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প (Donald Trump) লেখেন, “মনে হচ্ছে রাশিয়া (Russia) ও ভারতকে অন্ধকার চিনের কাছে হারিয়ে ফেলেছি।” এই মন্তব্যে ধরা পড়ে তার নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে কৌশলগত অবস্থান হারানোর আশঙ্কা। বিশেষ করে, এসসিও বৈঠকে যখন মোদীকে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) পাশে দেখা গিয়েছে, তখন সেই ছবি যেন ট্রাম্পকে (Donald Trump) আরও হতাশ করেছে।
হোয়াইট হাউসের (White House) এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমি হতাশ, কারণ ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে। আমি তাদের এটা জানিয়েছি। আমরা ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলাম—এটা খুব বড় একটি শুল্ক ছিল।” তবে হতাশার মাঝেও মোদীর প্রতি তার ব্যক্তিগত স্নেহে ভাঁটা পড়েনি, সেটাই বুঝিয়ে দেন ট্রাম্প। বলেন, “মোদী আমার খুব ভালো বন্ধু। কিছু মাস আগেই তিনি এসেছিলেন, আমরা রোজ গার্ডেনে একসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমি সব সময় তার বন্ধু থাকব, তিনি একজন মহান নেতা।”
তবে ভারতের ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও চিন-রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্পের প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা তার বক্তব্যেই প্রতিফলিত। বিশেষত, চিনের কুচকাওয়াজে কিম জং উনের উপস্থিতি, শি ও পুতিনের দৃশ্যমান একতা এই চিত্রনাট্যে ভারতকেও যখন পাশে দেখা যায়, তখন মার্কিন মঞ্চে অস্বস্তির ছায়া পড়ছে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।সরাসরি সমালোচনা না করেও, মোদীর ‘বন্ধু’ পরিচয়ের আড়ালে ট্রাম্প যেন এক কূটনৈতিক সতর্কবার্তা দিয়েই রাখলেন,বন্ধুত্ব থাকলেও, সবকিছুই যে এখন আর আগের মতো নেই, তা স্পষ্ট।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
