নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (Kolkata University) বৃহস্পতিবার এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করল। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMC Students’ Wing) সাধারণ সম্পাদক অভিরূপ চক্রবর্তীকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ‘সেন্সর’ করা হয়েছে। ফলে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন না, পিএইচডি বা এমফিল (PhD, MPhil) করতে পারবেন না এবং ভবিষ্যতে এখানে চাকরির জন্যও আবেদন করতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: IIT Delhi : আবুধাবিতে আইআইটি দিল্লির নতুন সূচনা, চালু হল বি.টেক ও পিএইচডি কোর্স
ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্ত দে (VC Shanta Dutta De) জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার বা শিক্ষামন্ত্রী কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেননি বলেই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজে থেকে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তাঁর কথায়, “অভিরূপ বর্তমান ছাত্র নন, তবুও ছাত্রনেতা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে অশালীন ভাষায় উপাচার্য এবং পদকে অপমান করেছেন। এটি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার প্রতি আঘাত।” উল্লেখ্য, গত ২৮ অগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে (Foundation Day) পরীক্ষা সূচি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংঘাত বাধে। নির্ধারিত পরীক্ষা পিছোতে রাজি না হওয়ায় অভিরূপের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয় উপাচার্যের ঘরের সামনে। অভিযোগ, সেই সময় অভিরূপ কটূক্তি করেন উপাচার্যকে (Verbal Abuse, Student Politics)। তার জেরেই সর্বশেষ সিন্ডিকেট বৈঠকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য (TMC Leader Trinankur Bhattacharya) এই সিদ্ধান্তকে “অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “একজন কেয়ারটেকার উপাচার্য প্রতিহিংসা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Education Minister Bratya Basu) জানিয়েছেন, এই শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন জানানো হবে। তিনি বলেন, “এটি প্রতিহিংসামূলক আচরণ। এতে যদি কোনও ছাত্রের কেরিয়ার নষ্ট হয়, আমরা তার পাশে আছি। নতুন উপাচার্য এলে শাস্তি প্রত্যাহার করা হবে।”
নিজের প্রতিক্রিয়ায় অভিরূপ চক্রবর্তী (Abhirup Chakraborty) জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রতিহিংসাপরায়ণ। তাঁর দাবি, “২০২৩ সালে আমি পিএইচডি পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু ফলাফল আটকে রাখা হয়েছে কেবল আমি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ করি বলে। শান্তা দেবীর এই পদে বসার যোগ্যতা নেই।” পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করবেন (Legal Action, Student Rights)।
