Kumortuli : কুমোরটুলিতে ক্যামেরা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, শিল্পীদের ক্ষোভের মুখে ভ্লগার-মডেলদের ফটোশুট

কলকাতা শহর

নিউজ পোল ব্যুরো: কুমোরটুলি মানেই দুর্গাপুজোর আগমনী সুর। একদিকে মৃৎশিল্পীদের (Clay Artists) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে তৈরি হচ্ছে একের পর এক দেবী প্রতিমা (Durga Idol), অন্যদিকে সেই শিল্পের চারপাশে জমে উঠছে এক অন্য রকমের ভিড়। সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) যুগে ইনস্টাগ্রাম (Instagram Reels), ফেসবুক (Facebook Post) কিংবা ইউটিউব ভ্লগ (YouTube Vlog) যেন কুমোরটুলির অলিগলিকে দখল করে নিচ্ছে। প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে রিল বানানো, নাচ-গান তোলা, এমনকি সাজগোজ করে ফটোশুট (Photo Shoot) সবকিছুই এখন শিল্পীদের কাছে পরিণত হয়েছে বিরক্তির বড় কারণ।

আরও পড়ুন: Weather Update : দক্ষিণবঙ্গে টানা গরমের পর স্বস্তির বার্তা,বজ্র-বিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

শিল্পীদের অভিযোগ, এরা আর প্রতিমা দেখতে আসেন না, বরং নিজেদের প্রচারের নেশায় মেতে ওঠেন। অনেকে আলো-ঝলমলে লাইট, স্ক্রিপ্ট কিংবা মেকআপ নিয়ে হাজির হন। এতে শুধু কাজের গতি ব্যাহত হয় না, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। একবার হঠাৎ ধাক্কা লাগলেই ক্ষতি হতে পারে লক্ষ টাকার প্রতিমার। কুমোরটুলি মৃত শিল্পী সমিতির সম্পাদক কার্তিক পাল সাফ জানালেন, ‘আমরা বারবার অনুরোধ করি, কিন্তু কেউ কথা শোনেন না। একবার ভিড়ের চাপে কিছু ভেঙে গেলে দায় শিল্পীদেরই নিতে হয়।’

আগে শিল্পীদের সংগঠন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল। টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল শ্যুটিংয়ের জন্য। কিন্তু তাতে কাজের পরিবেশ আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই এ বছর অনেকেই একেবারে ক্যামেরা নিষিদ্ধ করেছেন। ৩০ বছরের অভিজ্ঞ প্রতিমাশিল্পী প্রদীপ রুদ্র পাল জানালেন, ‘আমাদের ওয়ার্কশপে ফটো তোলা একেবারেই চলবে না। প্রতিমা গড়ার সময় শান্তি নষ্ট হলে কাজ শেষ করা অসম্ভব।’

তবে সবাই যে ক্যামেরার বিরোধী, তা নয়। অতএব, কুমোরটুলির শিল্পীরা আজ দ্বিধাবিভক্ত একদল মনে করছে ক্যামেরা প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হওয়া দরকার, আরেকদল বলছে, শৃঙ্খলা মেনে চললে সবার কাজই সম্ভব। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর এই প্রজন্ম (Digital Generation) আদৌ কি সেই শৃঙ্খল মেনে চলবে? দুর্গাপুজোর (Durga Puja Festival) আগে শিল্পীদের স্বস্তি ফিরবে, নাকি ফিড ভরবে আরও রঙিন রিলসে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole