Bratya Basu: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের মৃত্যু, রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন ব্রাত্য বসু

শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ফের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য। গত বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাসের ঝিল থেকে উদ্ধার হয় ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর দেহ। একের পর এক এমন মর্মান্তিক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। এর মধ্যেই মুখ খুললেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। নাম না করে রাজ্যপাল তথা আচার্যকেই নিশানা করলেন তিনি।

আরও পড়ুন:Dev: দেবের প্রথম ক্রাশের নাম শুনে অবাক ভক্তরা, শুভশ্রী-রুক্মিণী নন!

শনিবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) সরাসরি আক্রমণ শানান রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। তাঁর কথায়, ‘‘কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছার বলি হচ্ছে এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলি।’’ তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৫— টানা তিন বছরে ছাত্রছাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ স্থায়ী উপাচার্য ছিলেন সুরঞ্জন দাস (Suranjan Das)। তারপর থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর কেটে গেলেও নতুন স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা হয়নি। রাজ্যপাল মনোনীত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য কিছুদিন দায়িত্ব সামলালেও পরবর্তীতে তাঁকে নিজেই সরিয়ে দেন আচার্য। ফলত, বর্তমানে সম্পূর্ণ উপাচার্যহীন অবস্থায় চলছে বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্রাত্যে বসুর (Bratya Basu) দাবি, পরিকল্পনা করেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অরাজকতা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যখন রাজ্য নিযুক্ত উপাচার্য ছিলেন এবং ভালোভাবে কাজ করছিলেন, তখন তাঁকে সরিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ মস্তকহীন করে দেওয়া হল। যিনি করলেন তিনি সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ও আইনকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে এই কাজ করেছেন।’’ তাঁর মতে, এর ফলেই যাদবপুরের মতো ‘স্পর্শকাতর বিশ্ববিদ্যালয়ে’ অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, আর তার খেসারত দিচ্ছে নিরীহ ছাত্রছাত্রীরা।

তবে অস্থিরতার মধ্যেও যাদবপুরের কৃতিত্বের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) বলেন, ‘‘এতসব সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় র‌্যাঙ্কিংয়ে যাদবপুর এখনও তার সর্বোচ্চ জায়গা ধরে রেখেছে, এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি ধন্যবাদ জানাই।’’ পাশাপাশি তিনি জানান, নিরাপত্তার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য অর্থ দফতর বরাদ্দ করছে এবং নতুন উপাচার্য নিয়োগ হলেই দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু যাদবপুর নয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাও যে সন্তোষজনক নয়, সে কথাও স্পষ্ট করেন ব্রাত্য বসু। তাঁর বক্তব্য, ‘‘উপাচার্যের রাজধর্ম পালন করতে গিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আজ কেন্দ্রীয় র‌্যাঙ্কিং-এ তলানিতে চলে গিয়েছে।’’ সব মিলিয়ে যাদবপুরের ছাত্রীমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল রাজ্যে।

 

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole