নিউজ পোল ব্যুরো:নিট (NEET Exam) উত্তীর্ণ হলেও মাঝপথে থেমে গিয়েছিল এক বিশেষভাবে সক্ষম তরুণের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে অবশেষে খুলে গেল ডাক্তারি পড়াশোনার দরজা। মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার চরসুজাপুরের বাসিন্দা প্রশান্ত মণ্ডল জন্মগতভাবে পোলিও রোগে আক্রান্ত। ফলে তার হাতের আঙুল অসম্পূর্ণ, সাড়ে তিন আঙুল দিয়েই তিনি কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সফলভাবে পাশ করেছেন সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা।
আরও পড়ুন:Quasi-Moon: ৬০ বছরের অপেক্ষা শেষ, মিলল পৃথিবীর নতুন ‘মিনি মুন’
প্রশান্ত জানান, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভেরিফিকেশনের জন্য প্রথমে তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ডাকা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অক্ষমতার কারণে ডাক্তারি পড়ার যোগ্য নন বলে জানিয়ে দেন। যুক্তি ছিল, হাতে ছুরি বা কাঁচি (Medical Instruments) ব্যবহারের ক্ষমতা তার নেই। স্বপ্নের দ্বার যেন সেখানেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হার মানেননি প্রশান্ত। পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি উচ্চ আদালতের (Court Order) দ্বারস্থ হন।

আদালত মুম্বইয়ের এইমস (AIIMS Mumbai) হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। সেখানে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার পর প্রশান্তকে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই অনুমোদন হাতে নিয়ে তিনি ফের যান মালদা মেডিক্যাল কলেজে (Malda Medical College) দ্বিতীয় দফার ভেরিফিকেশনে। কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় জানান, প্রশান্তের সমস্ত নথি আপাতত সঠিক রয়েছে। কেবল জাতি শংসাপত্রে (Caste Certificate) সামান্য ভুল থাকায় তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর তাঁকে আবার ডাকা হবে চূড়ান্ত ভেরিফিকেশনের জন্য।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
প্রশান্ত ও তার পরিবার জানিয়েছেন, আদালতের এই রায় শুধু তার নয়, বরং বহু বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্রছাত্রীর (Disability Rights in Education) জন্য নতুন আশার আলো। আর্থিক অনটন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা কোনও কিছুই তার স্বপ্ন থামাতে পারেনি। পরিবারও নতুন করে বুক বাঁধছে একদিন তাদের ছেলে সাদা অ্যাপ্রন পরে (Doctor’s White Coat) রোগীদের সেবা করবে।
