Durga Puja in London : সপ্তম বর্ষে আড্ডার পুজো! লন্ডনে চায়ের দোকান থিমে বাঙালির মহামিলন

আন্তর্জাতিক কলকাতা সংস্কৃতি

নিউজ পোল ব্যুরো: দূরদেশে থেকেও বাঙালির হৃদয়ে দুর্গাপুজো (Durga Puja in London) মানে শুধু ধর্মীয় রীতি নয়, বরং এক বিশাল সাংস্কৃতিক উৎসব (cultural festival)। কলকাতার ভিড় কিংবা কাশবনের হাওয়া এখানে নেই ঠিকই, কিন্তু ঢাকের শব্দ, মণ্ডপের আলো আর পরিচিত মুখের হাসি মিলিয়ে লন্ডনের বুকে তৈরি হয় এক টুকরো বাংলা। প্রবাসী বাঙালির (Bengali diaspora) কাছে এই পূজো হয়ে উঠেছে ঘরে ফেরার আনন্দ, এক মিলনমেলা।

এবার সপ্তম বর্ষে পা রাখল আড্ডার পুজো (Adda Pujo)। স্লাউ (Slough), হ্যারো (Harrow), ক্রয়ডন (Croydon), ইস্ট লন্ডন (East London) নানা প্রান্তের মানুষ এসে মিশে যান এক আবেগে, এক উৎসবে। এবারের বিশেষ আকর্ষণ তাদের অভিনব থিম (theme puja) বাংলার চায়ের দোকান। কাঠের বেঞ্চ, কাগজের কাপ, ভাপ ওঠা চা আর গল্পের আড্ডায় যেন ফিরে আসে কলকাতার পাড়ার মোড়ের সেই সাদামাটা ঠেক। উদ্যোক্তাদের মতে, চা কেবল পানীয় নয় এটি সম্পর্কের বাঁধন, চিন্তার আদানপ্রদান এবং আনন্দের উৎস। তাই প্রবাসেও সেই স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতে তৈরি হয়েছে চায়ের দোকান থিম।

আরও পড়ুন: Weather Update:পঞ্চমী থেকে বৃষ্টি! গোটা দুর্গাপুজোতে আবহাওয়ার সতর্কতা

শুধু আড্ডাই নয়, মণ্ডপও সাজছে নতুন রঙে। কর্ণাটকের নকশায় রঙ্গোলির আলপনা, রঙিন আবির, আলো-ছায়ার খেলা সব মিলিয়ে গড়ে উঠছে ভিন্ন প্রান্তের শিল্প ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধন। ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর স্লাউ ক্রিকেট ক্লাব প্রাঙ্গণ ভরে উঠবে এই উৎসবে। থাকবে অঞ্জলি, ধুনুচি নাচ, শিশুদের আঁকিবুঁকি প্রতিযোগিতা, বড়দের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,এই চার দিনে লন্ডন যেন রূপ নেবে এক টুকরো কলকাতায়। আর বিজয়ার রাতে থাকছে বিশেষ চমক জনপ্রিয় গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী মঞ্চ মাতাবেন তার আবেগঘন কণ্ঠে।

আড্ডার পুজোর উদ্দেশ্য শুধু পূজা নয়, বরং প্রবাসীদের জন্য এক সামাজিক মেলবন্ধন তৈরি করা। সারা বছর যাদের দেখা হয় না, তারা চায়ের ধোঁয়া আর গল্পের আসরে মিলিত হন এই চার দিনে। সাত বছরে আড্ডার পুজো হয়ে উঠেছে প্রবাসী জীবনের অন্যতম বড় সামাজিক উৎসব।

সাত মানেই শুভ, সাত মানেই সম্পূর্ণতা। তাই সপ্তম বর্ষে চায়ের দোকান থিম যেন আরও কাছে টেনে আনে প্রবাসী বাঙালিকে তার শিকড়ের কাছে। আড্ডার পুজো তাই শুধু পূজা নয়, এ এক মায়া, এক স্মৃতি, এক বন্ধন। যেখানে প্রতিটি প্রবাসী মনে মনে বলে ওঠে -“এখনও আড্ডা বেঁচে আছে, এখনও পূজা মানেই ঘরে ফেরার আনন্দ।”