নিউজ পোল ব্যুরো: প্রতিবছরই নানা কারণে ধাক্কা খায় পদ্মের চাষ। কখনও অতিবৃষ্টি, কখনও আবার বন্যা কিংবা হঠাৎ আবহাওয়ার পালাবদলে নষ্ট হয়ে যায় ফুল। বিশেষত পদ্ম (Lotus Flower) গাছে অতিবৃষ্টির ফলে পচন ধরলে বড় সমস্যায় পড়েন চাষিরা। সেই কারণেই দুর্গাপুজোর(Durga Puja)সময় সন্ধিপুজোয় প্রয়োজনীয় পদ্ম জোগাড় করতে গিয়ে ভরসা রাখতে হয় ভিনরাজ্যের বাজারের উপর। সরবরাহ কম থাকায় দামও চড়ে যায় অনেকটা। তবে এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। লাগাতার বৃষ্টি হলেও রাজ্যে ব্যাপক হারে পদ্মের চাষ হয়েছে। চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যেও পাঠানোর মতো যথেষ্ট পদ্ম রয়েছে বলে জানাচ্ছেন ফুলচাষিরা।
আরও পড়ুন: Gautam Adani : গুয়াহাটিতে জুবিন গর্গের বাড়িতে গৌতম আদানি ও পুত্র, গরিমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোকপ্রকাশ
সন্ধিপুজার দিনে প্রতি বছর রাজ্যে অন্তত এক কোটি পদ্মফুলের প্রয়োজন হয়। আগের বছরগুলিতে এর প্রায় ৩০ শতাংশ ভিনরাজ্য থেকে আনতে হত। কিন্তু এবারে জোগানে ঘাটতি নেই বলেই দামও আগের মতো বাড়ার সম্ভাবনা নেই। ফুলচাষিরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই প্রচুর পদ্ম তোলা হয়ে হিমঘরে রাখা হয়েছে। গত বছর মহালয়ার পরে প্রতিটি পদ্মের দাম যেখানে ছিল ১৩ থেকে ১৫ টাকা, অষ্টমীর দিন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২০ টাকা। এবার সেখানে হাটে মিলছে মাত্র সাড়ে তিন থেকে পাঁচ টাকায়। অনুমান করা হচ্ছে, পুজোর সময় [Bengal Flower Market]–এ পদ্মের দাম আট থেকে দশ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

তবে অন্যদিকে আশঙ্কা বাড়ছে দোপাটি, গাঁদা (Marigold), অপরাজিতা, রজনীগন্ধা (Tuberose)–সহ বিভিন্ন ঝুরো ফুলের ক্ষেত্রে। টানা নিম্নচাপজনিত অতিবৃষ্টির জেরে পাপড়ির মধ্যে জল ঢুকে ফুলের মান নষ্ট হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পাপড়ি পচে দাগ পড়ে গেছে, যার ফলে সেগুলি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। বাইরে পাঠানোও বন্ধ। নিচু এলাকার বাগানগুলিতে এখনও জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। হালকা রোদ্দুর পড়লেই নরম প্রকৃতির ফুলগাছ মরে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে এই সমস্ত ফুলের জোগান পুজোর সময় কমে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বাড়বে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির তরফে জানানো হয়েছে, এবারের পদ্মচাষ সত্যিই নজিরবিহীন হলেও অন্যান্য পাপড়িযুক্ত ফুলে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। তাই পদ্মে স্বস্তি এলেও পুজোর বাজারে অন্যান্য ফুলের জন্য ভোক্তাদের কিছুটা বেশি খরচ করতেই হতে পারে।
