নিউজ পোল ব্যুরো:দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি, তবে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India announcement)। রবিবার পাটনায় সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Jagnesh Kumar) স্পষ্ট জানালেন, আগামী ২২ নভেম্বরের মধ্যেই বিহার নির্বাচনের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। দু’দিনের সফরে পাটনা গিয়েছেন তিনি, যেখানে রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যা যা প্রয়োজন, সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও বুথেই ১২০০ জনের বেশি ভোটার থাকবে না এবং ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং করা হবে।”
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/10/05/kolkata-red-road-durga-puja-carnival-rainy-celebration-2025/
বর্তমান বিহার বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ নভেম্বর। নিয়ম অনুযায়ী, তার আগেই ভোটগ্রহণের সমস্ত কাজ শেষ করতে হবে। সেইমতো নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India announcement) ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। বুথ-স্তরের এজেন্ট ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরই প্রথমবার বুথ-স্তরের সমস্ত এজেন্টদের প্রশিক্ষণ করানো হয়েছে দিল্লিতে। বুথ কর্মকর্তাদের ফটো আইডি কার্ড থাকবে, এবং ভোটারদের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে প্রবেশের আগে মোবাইল ফোন বাইরে জমা রাখতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, নতুন তালিকা থেকে অন্তত ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সেই অভিযোগ উড়িয়ে জানিয়েছেন, “যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁরা যদি যোগ্য ভোটার হন, তাহলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ১০ দিন আগে পর্যন্ত ফর্ম ৬ বা ফর্ম ৭ জমা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।” কমিশনের দাবি, বুথ-স্তরে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ প্রশংসনীয়ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই কাজে যুক্ত ছিলেন রাজ্যের ৯০,২১৭ জন বুথ-স্তরের কর্মী।
বর্তমানে ২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় এনডিএ জোট—বিজেপি, জেডিইউ ও এলজেপি—ক্ষমতায় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন নীতীশ কুমার। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরে রয়েছে আরজেডি, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলি। এ ছাড়াও প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বে জনসূরজ পার্টি এবারের নির্বাচনে সমস্ত আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করেছে। ফলে তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আবহ। একদিকে নীতীশ কুমারের সরকার একের পর এক সামাজিক প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা করে ভোটের ময়দান গরম রাখছে, অন্যদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে—বিজেপি হিন্দুত্ববাদ ও ভোটচুরির রাজনীতি করছে।
