নিউজ পোল ব্যুরো:অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ ও সিকিম (North Bengal landslide)। টানা তিনদিনের অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি অঞ্চলে নেমেছে ভয়াবহ ধস, উপচে পড়েছে নদী, ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিধসের পর রবিবার সকালেই চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রশাসনিক হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪, নিখোঁজ বহু, আহতও অনেকে। চলছে উদ্ধারকাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার — প্রায় সব পাহাড়ি জেলা জুড়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে একাধিক জায়গায় মাটি আলগা হয়ে বিশাল পরিসরে ধস নেমেছে। ধসে চাপা পড়ে ও জলের স্রোতে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। ধসের জেরে ভেঙে পড়েছে দুধিয়া লোহার সেতু ও বিজনবাড়ি সেতু। বন্ধ হয়ে গিয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক—যা শিলিগুড়ি ও পাহাড়ের মধ্যে অন্যতম প্রধান যোগাযোগ পথ। ফলে উত্তরবঙ্গের বহু এলাকা এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন।
বিপদসীমার বহু উপরে বইছে তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা-সহ উত্তরবঙ্গের (North Bengal landslide) প্রায় সমস্ত নদী। পাহাড়ের বিভিন্ন গ্রাম ও ছোট শহরে জল ঢুকে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য বাড়ি, দোকান ও সড়ক। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ির সঙ্গে ঋষিখোলা ও পেডং। মিরিকেও একের পর এক ধসের ফলে প্রাণহানি ঘটেছে অন্তত ৯ জনের।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় প্রশাসনই নড়েচড়ে বসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে ব্যথিত। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সাহায্য পাঠাতে আমরা প্রস্তুত।” তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, “প্রয়োজনে কেন্দ্র রাজ্যের পাশে থেকে সবরকম সহযোগিতা করবে।”
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সোমবারই তিনি সরাসরি উত্তরবঙ্গে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। ইতিমধ্যেই নবান্নে খোলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) ও উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম এলাকায় পৌঁছে কাজ শুরু করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “উত্তরবঙ্গবাসীর পাশে সরকার রয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আপাতত প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার দিকে। শিলিগুড়ি, কালিম্পং ও দার্জিলিংয়ে একাধিক আশ্রয়শিবির তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একযোগে কাজ করছে দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্য পৌঁছে দিতে। তবে আবহাওয়া দফতরের আশঙ্কা, অতিবৃষ্টির প্রভাবে আরও ধস নামতে পারে। ফলে উদ্ধারকর্মীদের কাজ আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।
প্রবল বৃষ্টি, পাহাড়ের ধস, নদীর রুদ্ররূপ — ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে এখন উত্তরবঙ্গবাসীর একটাই প্রশ্ন, “কবে থামবে এই বৃষ্টি?”
