Pakistan: “আমরা কুরবানির জন্য এসেছি”, টিএলপির হুঙ্কার, পুলিশের গুলিতে নিহত ১১

আন্তর্জাতিক

নিউজ পোল ব্যুরো: নিঃশব্দে জ্বলছে পাকিস্তান (Pakistan)! এই মুহূর্তে যেন এক তপ্ত বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদ (Islamabad)। গাজায় ইজরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সেই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু এখন রাজধানী ইসলামাবাদ, যেখানে চরমপন্থী ইসলামিক সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (TLP)-এর ডাকে রাজপথে নেমেছে হাজারো মানুষ। সরাসরি শাহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে এই সংগঠন তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার আসলে আমেরিকার (America) পুতুল, যারা গাজায় ইজরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে সরব না হয়ে কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা নিচ্ছে।

আরও পড়ুন: নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ERO নিয়োগ! মুখ্যসচিবকে কাঠগড়ায় তুলল কমিশন

এই বিক্ষোভে গত দুই দিনে ভয়াবহ হিংসার চিত্র দেখা গেছে। ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১১ জন নিহত, আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েই এই আন্দোলনের সূচনা হয়। হঠাৎ করেই রাজধানীতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। রাস্তাজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর টহল, আর তবুও থামছে না জনরোষ। লাহোরের আজাদি চক, পেশোয়ার, করাচি সবখানেই ছড়িয়েছে এই আগুন। পুলিশের গাড়িতে আগুন, রাস্তা অবরোধ, পাথরবৃষ্টি, পাল্টা গুলিচালনা সব মিলিয়ে গোটা পাকিস্তান (Pakistan) যেন যুদ্ধক্ষেত্র।

শুধু জনরোষ নয়, টিএলপির (TLP) বক্তব্যেও স্পষ্ট রণহুংকার। তাদের প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “কুরবানি দিতেই আমরা এসেছি গ্রেফতার বা গুলি কিছুই আমাদের দমাতে পারবে না।” অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার এ আন্দোলনকে ‘বিদেশি ইন্ধনে পরিচালিত উসকানিমূলক হিংসা’ বলে দাবি করছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে লাঠি, রাসায়নিক, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে যা প্রমাণ করে, এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল হিংসা ছড়ানো, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নয়। ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ রেড জোন রীতিমতো দুর্গে পরিণত হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসগুলিতে জারি হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। বন্ধ করা হয়েছে শহরের সব হোটেল।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole