নিউজ পোল ব্যুরো: নিশ্ছিদ্র অভিযানে ফের বড়সড় সাফল্য ছত্তিশগড় (Chattisgarh) পুলিশের। মাওবাদী দমনে রাজ্য সরকারের কৌশল যে কার্যকর হচ্ছে, তার প্রমাণ মিলল একযোগে ৭৮ জন মাওবাদীর (Maoists) আত্মসমর্পণের ঘটনায়। বস্তার, সুকমা এবং কাঙ্কের এই তিন মাও-অধ্যুষিত জেলা থেকে আত্মসমর্পণ করলেন একাধিক মাও ক্যাডার। শুধু সংখ্যাতেই নয়, মানের দিক থেকেও এই আত্মসমর্পণ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৪৩ জন মহিলা, এবং অন্তত ১৬ জনের মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: Mamata-Abhishek: শহিদ মিনার থেকে ‘ছাব্বিশের শপথ’, তৃণমূলের হাত ধরে ভোটযুদ্ধের সূচনা!
বুধবার ছত্তিশগড়ের (Chattisgarh) বস্তার জেলায় প্রথম আত্মসমর্পণের সূচনা। এরপর সুকমা ও কাঙ্কেরেও আত্মসমর্পণ করেন মাওবাদীরা (Maoists)। পুলিশের মতে, এই সমস্ত মাওবাদীরা দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্র-বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্রও জমা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগেই আত্মসমর্পণ করেছিলেন নিহত মাও নেতা কিষেনজির স্ত্রী সুজাতা। এরপর তার ভাই, মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে সোনু দাদা ৬০ জন ক্যাডারসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এবার সেই ধারাই আরও বিস্তৃত হলো ছত্তিশগড়ের (Chattisgarh) মাও-ঘাঁটিতে।
এই আত্মসমর্পণের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ছত্তিশগড় সরকারের নতুন ‘নকশাল আত্মসমর্পণ ও আক্রান্তদের পুনর্বাসন নীতি ২০২৫’-এর। এই নীতির আওতায় আত্মসমর্পণকারীরা পাচ্ছেন এককালীন আর্থিক সহায়তা, চাকরির সুযোগ, আইনি সুরক্ষা এবং সন্তানদের শিক্ষায় সহায়তা। উচ্চপদস্থ মাওবাদী নেতাদের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদানও ঘোষণা করেছে সরকার। এমনকি যারা লাইট মেশিনগান বা অন্যান্য ভারী অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করছেন, তাদের জন্যও থাকছে বাড়তি পুরস্কারের ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের টার্গেটেড রিহ্যাব পলিসি এবং পুলিশের কৌশলগত অভিযানের ফলেই মাও দমনে মিলছে এমন সাফল্য। আর এই ধারা বজায় থাকলে ছত্তিশগড়সহ গোটা মধ্যভারত থেকে মাও হুমকি অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে—এমনটাই আশাবাদী নিরাপত্তা মহল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
