নিউজ পোল ব্যুরো: মোহনবাগানের (Mohun Bagan) জয়ের নায়ক যদি বিশাল কাইথ (Vishal Kaith) হন তাহলে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) হারের খলনায়ক জয় গুপ্তা (Jay Gupta)। তবে তিনি নিজেও অনুতপ্ত। ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র হয়ে যখন ট্রাইবেকারে গড়ায় তখন তার পেনাল্টি মিস সমস্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলেছে। দুরত্ব মিটিয়ে দিয়েছে মোহনবাগান সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবলারদের৷ অন্যদিকে ১২০ মিনিট লড়াইয়ের উত্তেজনাও শান্ত হয়ে গেছে। মাঠেই সতীর্থদের কাধে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জয় গুপ্তা। তিনিও যেন নিজেকেই ভিলেন মানছিলেন। তাকে ভেঙে পড়তে দেখে ছুটে এলেন প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলার শুভাশিস বোস (Shubhashis Bose)। একসঙ্গে ভারতের জার্সিতে খেলেছেন। তাই খেলার বাইরে নিজের জয়ের আনন্দকে পিছনে ফেলে বন্ধুকে সান্ত্বনা দিলেন তিনি। শনিবারের যুব ভারতী সাক্ষী রইল ইস্ট-মোহনের বন্ধুত্বেরও।
ড্রেসিংরুমে ফিরে অনুতপ্ত জয় গুপ্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) বার্তা দিয়েছেন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে। শুধু তাই নয়, ঘুরে দাঁড়ানোর শপথও নিয়েছেন তারা। তিনি বলেছেন, ‘সমর্থক, ক্লাব, এবং ইস্টবেঙ্গলের পাশে যারা আছেন তাদের আমি ফাইনালের কথা বলতে চাই। পেনাল্টি মিস করার জন্য আমি সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছি। ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস এবং যে আবেগ রয়েছে, সেই ক্লাবের প্রতিনিধিত্বকারী একজন খেলোয়াড় হিসাবে, আমি বুঝতে পারি যে সেই মুহূর্তটি প্রতিটি ভক্ত, সতীর্থ এবং এই পরিবারের সদস্যদের জন্য কী বোঝায়। এই ধরনের মুহূর্তগুলি বেদনাদায়ক, এবং কোনও শব্দই হতাশাকে কমাতে পারে না যা আমি জানি আজ রাতে প্রতিটি ইস্টবেঙ্গল সমর্থক অনুভব করেছিল।

আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই — এই ধাক্কা আমাকে টলাতে পারবে না। এই হার যে কষ্ট দিয়েছে, তার প্রতিটা বিন্দুর জন্য আমি প্রতিশোধ নেব অদম্য পরিশ্রম আর অটল প্রতিজ্ঞায়। একবারের ভুলের বদলে আমি দশটা শিরোপা জিতব — এটাই আমার অঙ্গীকার, এটাই আমার উদ্দেশ্য।’
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
জয় গুপ্তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তার সতীর্থরাও। তার পোস্টে কমেন্ট করেছেন রাশিদ (Rashid), কেভিন সিবিল্লে (Kevin Sibille) এবং মিগুয়েল (Miguel)। কেভিন সিবিল্লে লিখেছেন, ‘যারা সাহসী হয় তারাই ব্যর্থ হয়। যেমন তুমি। সাহস করে পেনাল্টি মারার দায়িত্ব নিয়েছ। সবসময় তোমার সঙ্গে আছি।’ রাশিদ আবার বলেছেন, এটাই তোমার সঠিক মানসিকতা ভাই। আমরা আবার ফিরব একসঙ্গে। আমরা সবাই তোমার সঙ্গে আছি।’ মিগুয়েলও পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এর থেকেই বোঝা যায় হারলেও ইস্টবেঙ্গলের ড্রেসিংরুম কিন্তু ঐক্যবদ্ধ। এবার তাদের লক্ষ্য সুপার কাপ। তারা সুপার কাপে এই হারের বদলা নিতে চান।
