MPox : বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ‘এমপক্স’ আতঙ্ক! সতর্কবার্তা জারি করল WHO

দেশ স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে নতুন এক ভাইরাস আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে ‘এমপক্স’ (Mpox Outbreak)। আফ্রিকার গণ্ডি পেরিয়ে এই ভাইরাস এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের একাধিক দেশে। বিশেষ করে পূর্ব আফ্রিকার (East Africa) দেশগুলিতে কয়েক বছর ধরেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছিল। এবার সেই আতঙ্ক পৌঁছে গিয়েছে আমেরিকায় (United States)। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া (South California) সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে এমপক্স আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক দেশে সতর্কতা জারি করেছে WHO Alert (World Health Organization) ।

আরও পড়ুন: Pakistan attack Afghanistan : পাকিস্তানের হামলার জের। ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে সরে দাঁড়াল আফগানিস্তান

২০২২ সালেও এই সংস্থা মাঙ্কিপক্স (Monkeypox) নিয়ে সতর্ক করেছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, কারণ ভাইরাসটির নতুন সংস্করণ ‘ক্লেড ১’ (Clade 1 Variant) ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। এক সময় আফ্রিকার সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকা এই ভাইরাস এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ভারতেও (India) এর আগে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে কেরল (Kerala)-এ কয়েক দিনের মধ্যেই একাধিক আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তাই নতুন করে ভাইরাসটির পুনরাবির্ভাব চিকিৎসক মহলে (Medical Experts) নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমপক্স একটি পশুবাহিত (Zoonotic Virus) সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এসে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করে। এমপক্সের উপসর্গ (Symptoms of Mpox) অনেকটা চিকেন পক্সের মতো হলেও এর তীব্রতা বেশি। জ্বর, মাথাব্যথা, তীব্র পেশিব্যথা, গ্ল্যান্ড বা শরীরের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, সারা শরীরে র‍্যাশ—এই রোগের অন্যতম লক্ষণ। আরও ভয়ংকর দিক হল, এমপক্সে আক্রান্ত হলে শরীরে রক্ত সঞ্চালনে (Blood Circulation) বাধা তৈরি হয়, ফলে শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যায়। সংক্রমণ ছড়ায় সংস্পর্শের মাধ্যমে (Human to Human Transmission)। সংক্রমিত ব্যক্তির লালা, থুতু, হাঁচি-কাশি বা ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে এলেই সুস্থ দেহে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পোশাক বা তোয়ালেও সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

এই রোগের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট টিকা (Vaccine) বা চিকিৎসা (Treatment) এখনও পর্যন্ত কার্যকরভাবে পাওয়া যায়নি। পক্সের টিকা দিলেও তা খুব একটা সুরক্ষা দিতে পারে না। তাই সংক্রমণ রোধে সতর্কতা ও সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিড় এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি (Hygiene) মেনে চলা এবং সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এই মুহূর্তে এমপক্স রোধে (Mpox Prevention) এগুলি সবচেয়ে কার্যকর পথ। এই নতুন ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে আন্তর্জাতিক স্তরে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।