নিউজ পোল ব্যুরোঃ আর্থিক প্রতারণা করার পর, চুরি করার সামগ্রী ফিরিয়ে দিত সে। পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ করত ধরতে পারলে ধরে দেখাও। ভারতের ১৩ রাজ্যের পুলিশের কাছে অধরা ছিল সে। অবশেষে বিধান নগর পুলিশের হাতে গ্রেফতার অভিযুক্ত। কেরালা থেকে রবিবার তাকে গ্রেফতার করেছে বিধান নগর পুলিশ।
এই বছর জুলাই মাসে বিধাননগর পূর্ব থানায় একটি প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারী দাবি ছিল তার দামি মোবাইল, ল্যাপটপ ও ক্রেডিট কার্ড চুরি। অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগে পুলিশকে জানিয়েছিল, তার চুরি যাওয়া কার্ড দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকার প্রতারণা করা হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্ত শুরু করে বিধান নগর পুলিশ খুব অবাক হয়। শুরু হয় তদন্ত। সেই অভিযোগের তিন মাসের মধ্যেই রহস্য ভেদ করে ফেলল বিধান নগর থানার তদন্তকারি পুলিশ। ঘটনার তিন মাসের মধ্যেই কেরালা থেকে বিধান নগর পুলিশ গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত অজয় কুড়াপাতিকে। পাঁচ বছর ধরে ১৩ টি রাজ্যের পুলিশকে ঘোল খাওয়ানোর পরে। এই কারণেই কথায় বলে পারফেক্ট ক্রাইম বলে আসলে কিছু হয়না। অপরাধী যতই চালাক চতুর হোক না কেন, ক্লু সে রেখে যাবেই। সেই সূত্রটাই ধরে ফেলেছে বিধাননগর থানার পুলিশ।
[আরও পড়ুন] http://আর জি কর ডাক্তারের রহস্য মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য
ব্যতিক্রমী অপরাধের ধারায় এই অপরাধীর নাম উঠে এসেছে প্রথম সারিতে। কারণ, তার অপরাধের কৌশল প্রণালী। একটু ব্যাখ্যা দেওয়া যাক। অপরাধী প্রথমে জাল সিম কেনে, তারপরে মোবাইল কিনে মেল তৈরি করে । সেই মেল(মাইল) থেকে হোটেল বুক করে। অপরিচিত লোকের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব তৈরি করে। আর তারপরে সেই ব্যক্তির মোবাইল ল্যাপটপ চুরি করে পালাত। আর রেখে যেত একটা চ্যালেঞ্জ। “পারলে ধরে দেখাও।” সেই চ্যালেঞ্জই গ্রহণ করে বিধান নগর থানার তদন্তকারি পুলিশ। অবশেষে ধরা পরে এই অপরাধী। একেবারে সিনেমাটিক ধারার ক্রাইম। যেন অমিতাভ বচ্চনের ” ডন ” ছবির রিমেক। ডনকো পাকাড়না মুস্কিলই নেহি। না মুমকিন হ্যয়।
বিধান নগর পুলিশ কমিশনারের ডিসি ডিডি কুলদীপ সোনাওয়ানে জানান, অভিযুক্তর অপরাধ করার পদ্ধতিটি ইউনিক প্যাটার্ন ছিল। সে চুরি করা মোবাইল মোবাইল, ল্যাপটপ ফেরৎ দিয়ে দিয়েছিল। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিক ফেক আধার কার্ড বানিয়েছিল। সে মোট 38 টি সিম ব্যবহার করেছে। ডিসিডিডি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে সিম কেনে, তারপর মোবাইল কিনে মেল ক্রিয়েট করে অ্যাপ থেকে হোটেল বুক করে। তারপর সেখানে গিয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে প্রথমে বন্ধুত্ব পাতায় এবং তারপর তার মোবাইল ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে পালাতো। অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগে 2023 এ গ্যাংটকে গ্রেফতার হয়েছিল। অভিযুক্ত অজয় কুড়াপাতি 12 ক্লাস পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। একই সঙ্গে সে এথিক্যাল হ্যাকিং কোর্সও করেছে। পুলিশ জানিয়েছে যে জেরায় এই ব্যক্তি দাবি করেছে, সে জুয়া খেলার জন্য এই ধরনের অপরাধ করেছে। পাশাপাশি চুরি করা বেশ কিছু জিনিস ধৃত ব্যক্তি olx এ বিক্রি করে দিত । পুলিশের কাছে জেরায় জানিয়েছে একথাও। এই ব্যাপারে আর কিছু বলে নি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে। আপাতত ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় বিধান নগর পুলিশ।
এরকম ব্যতিক্রমী ধারার অপরাধীকে ধরতে পেরে খুব খুশি বিধাননগর থানার তদন্তকারী পুলিশের দল। অপরাধ বিজ্ঞানের এক শক্ত অপরাধী বিধাননগর থানার অপরাধ দমন শাখার সাফল্যের মুকুটে একটা নতুন পালক এনে দিল এই অপরাধী।
