ITC Deleted : ITC নাম তুলে নিল CSE থেকে

breakingnews কলকাতা ব্যবসা-বাণিজ্য শেয়ার বাজার বিনিয়োগ

নিউজ পোল ব্যুরোঃ স্টক মার্কেটে কোনও শেয়ারের লিস্টিংয়ের কথা তো হামেশাই শোনা যায়। কিন্তু লিস্ট থেকে নিজের নাম তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা এবার প্রথম শোনাচ্ছেন ঐতিহ্যশালী সংস্থা আই টি সি(ITC)। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। আই টি সি বোর্ড স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিজেদের নাম তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেছে। দেশের অন্যতম প্রাচীন স্টক এক্সচেঞ্জ ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিজেদের শেয়ার ডিলিস্টিং অনুমোদন করিয়ে নিল আই টি সি। যদিও NSE বা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ ও BSE বা বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে আইটিসির শেয়ারের লেনদেন স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
আইটিসি (ITC)এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে করল, যখন ১১৪ বছরের পুরনো এই স্টক এক্সচেঞ্জ নিজেই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। পিটিআই রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর শেষ কালীপুজো ও দীপাবলি উদযাপন করেছে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ। মূলত, ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে রেগুলেটরি জটিলতার কারণে সেবি এই স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সাসপেন্ড করে।
বহু বছর লড়াইয়ের পর, ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ স্বেচ্ছামূলকভাবে স্টক এক্সচেঞ্জ লাইসেন্স থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একসময় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জকে টেক্কা দিত যে প্রতিষ্ঠান, তার এমন পরিণতি হওয়ায় বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন সামনে এসে পড়ল।
[আরও পড়ুন]   http://নভেম্বরের শুরুতেই বাড়ল সোনার দাম, রুপোর দরে পতন! বিয়ের মরশুমে চিন্তায় ক্রেতারা
আইটিসি বোর্ড এই ডিলিস্টিং-এর ঘোষণা করেছে কোম্পানির চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় দফার তিনমাসের ফলাফলের সঙ্গে। এই ত্রৈমাসিকে আইটিসির(ITC)নেট মুনাফা হয়েছে ৫ হাজার ১৮৬ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। গত বছরের তুলনায় লভ্যাংশ বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি। লাভ বাড়লেও, শেয়ার বাজারের লেনদেনের জন্য ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের উপর ভরসা আর করছে না আইটিসি।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইটিসির এই পদক্ষেপ ছিল সময়ের অপেক্ষা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন বন্ধ। এ ছাড়াও বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেন। সেবি যদি ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে এক্সিট করতে অনুমতি দেয়, তাহলে এই প্রতিষ্ঠান একটি হোল্ডিং কোম্পানি হিসেবে কাজ করবে। এর শাখা সংস্থা CSE Capital Markets Private Limited শুধুমাত্র ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ ও বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য হিসেবে শেয়ার বেচাকেনা চালিয়ে যাবে।
এই নাম তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন হতাশাজনক, অন্যদিকে গোটা বাংলার অর্থনীতিতে এক গৌরবময় সময়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে। আই টি সির সঙ্গে সঙ্গে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জেরও ১১৪ বছরের সমাপ্তির ঘণ্টা যেন এক চরম হতাশার। বাংলার ঐতিহ্যশালী সংস্থার যবনিকা পতনের খবরে তাই বাংলার শেয়ার বাজারে এক চরম হতাশা ফুটে উঠছে। দেখা যাক, এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোন অর্থনৈতিক প্রগতি সামনে আসে বাংলার বাজার অর্থনীতির এই সন্ধিক্ষণে।